পৃষ্ঠাসমূহ

শনিবার, ৫ মে, ২০১২

হিলারির সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশে চলমান সমস্যাগুলোর সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পাশে থাকবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ ফ্লাইটে চীন থেকে বিকেল ৪টা চল্লিশ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌছান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। বিশ্বরাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি।
সন্ধ্যা ছ’টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দীপু মনি আর ৯ সদস্য নিয়ে বৈঠক করেন হিলারি ক্লিনটন। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সুশাসন, রাজনীতি, অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রাধান্য পেয়েছে সহযোগিতার ইস্যুগুলো।
ডাক্তার দীপু মনি বলেন, আমাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুহসংহত হওয়া প্রয়োজন আর প্রয়োজনে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
প্রশ্নোত্তরে সাংবাদিকদের হিলারি জানান, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, খুন কিংবা গুমের মতো ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নজরে এসেছে।
হিলারি বলেন, এ জাতীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে সরকারকে। রাজনীতি মানুষেরই স্বার্থে হওয়াই বাঞ্চনিয় বলে মন্তব্য তার।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে হিলারি বলেন, গণতন্ত্রই একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা দেয়; আর তাই গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে সংলাপ জরুরী।
‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ নির্বাচন ও নির্বাচন পদ্ধতির স্বার্থে দুই দলের এক সঙ্গে কাজ করাটা জরুরী’, বলেছেন হিলারি।
দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক ধরে রাখতে প্রতিবছর দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের জন্য সই হয় ‘অংশীদারী সংলাপ’ চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে চুক্তি সই করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পান্থ রহমান

শুক্রবার, ৪ মে, ২০১২

৫ মে, শনিবার আসছেন হিলারি ও প্রণব

শনিবার বিকেলে ঢাকা আসছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আর রাতে পা রাখবেন ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। দু’জনের সফরই দুই দিনের। এজেন্ডা ভিন্ন হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক বাড়ানো ও সূদৃঢ় করাই তাদের সফরের উদ্দেশ।
সম্পর্কের ভিন্নতা থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন আর ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির একই সময়ে ঢাকা সফর নিয়ে হচ্ছে নানান গুঞ্জন। কেউ কেউ এই দুই ‘হেভি-ওয়েট’ রাজনীতিকের ঢাকা সফরের মধ্যে সম্পর্ক খোঁজারও চেষ্টা করছেন। তবে এই দুই দেশের কূটনৈতিকদের মতো প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টারও একই মত, এটি শুধুই দ্বৈবক্রমে ঘটা। আর বিশেষজ্ঞরা হিলারির সফরকে দেখছেন ‘আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদার’-এর উপলক্ষ হিসেবে। যেখানে প্রণব মুখার্জির সফর শুধুই দ্বিপাক্ষিক ‘লাভ-ক্ষতি’র।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, কোন দেশের শীর্ষ কেউ কোন সরকারের শুরুতে আসলে এক রকম এবং শেষের দিকে আসলে তার বিশ্লেষণ অন্য রকম হয়। হিলারি এই সরকারের (আওয়ামী লীগ) শেষ সময়ে আসছেন; সে হিসেবে তিনি কী চান সেটাই এখন বড় ব্যাপার। ডক্টর ইমতিয়াজ মনে করেন, হিলারি এখন কিছু নিতেই আসছেন, দিতে নয়!
তবে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ডক্টর গওহর রিজভীর মতে, হিলারির সফর থেকে বাংলাদেশ পাবে অনেক কিছুই। বিশেষ করে, বড় এই দেশের সঙ্গে সমঝোতাও অনেক বড় একটা ব্যাপার বলে মনে করেন তিনি। ডক্টর রিজভী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র আছে; বিশেষ করে সেনা সহযোগিতার বিষয়। মার্কিনিদেরও আগ্রহ আছে এই বিষয়ে। আমাদের সেনাদের প্রশিক্ষণ এবং তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হতেই পারে।
কোন পক্ষই এজেন্ডা নিয়ে মুখ না খুললেও পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের নানান সূত্র থেকে জানা গেছে, হিলারির সফরে নিরাপত্তা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, সুসাশন আর রাজনীতির ইস্যুগুলো প্রাধান্য পাবে। আর ঐক্যমত হলে হবে ‘অংশীদারী সংলাপ’ এবং ‘টিকফা’ চুক্তি। যদিও টিকফা চুক্তি নিয়ে এখনও তৈরি হয়নি বাংলাদেশ। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে টিকফা চুক্তি করা নিয়ে চাপ আছে। যদিও বিষয়টি স্বীকার করেন না ডক্টর গওহর। তিনি বলেন, আমরা কোন গোপন চুক্তি করবো না ঠিকই তবে সহযোগিতার নানান বিষয় নিয়ে হিলারির সঙ্গে আলাপ হবে।
ডক্টর ইমতিয়াজ বলেন, দুটি দেশের সঙ্গেই সাবধানী হওয়াটা জরুরী।
শনিবার বিকেলে চীন থেকে ঢাকায় নামবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আর রাতে আসবেন প্রণব মুখার্জি। ৬ মে ঢাকা থেকে কোলকাতা হয়ে দিল্লী যাবেন হিলারি আর প্রণব সরাসরি ফিরবেন দিল্লীতে।
পান্থ রহমান

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে কথা বলবে জাপান!

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঝামেলা মেটলে পদ্মাসেতু নির্মানে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদা। তবে এককভাবে পদ্মাসেতু নির্মানে অপরাগতা জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, মেট্রোরেল ইস্যু বিবেচনাধীন আছে। আর উন্নয়ন সহযোগিতা প্রশ্নে ওকাদা বলেন, নিজেদের করের টাকার সঠিক ব্যবহার দেখতে চায় জাপানিরা।
দুই দিনের সফরের শেষ দিনে জাপানি উপ-প্রধানমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদা যোগ দেন ব্যবসায়ীদের ‘নাস্তার টেবিল’-এ। আলোচনা হয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদশে জাপানি বিনিয়োগ আর বাণিজ্য ঘাটতি ইস্যুতে। তৈরি পোশাক রপ্তানীতে শুল্ক ছাড় দেওয়ায় ধন্যবাদ দিয়ে বাকি পণ্যগুলোতেও শুল্ক ছাড় চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের আশ্বস্থ করেছেন জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী।
জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদা বলেন, গ্যাস আর বিদ্যুতের সমস্যার কারণেই জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারে না। এ বিষয়টি নিয়ে আমার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
দুই দিনের সফর শেষে বিমানবন্দরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন ওকাদা। নানান প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়। তবে সেই সম্ভবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন কিছু সংস্কারের।
কাতসুয়া ওকাদা বলেন, পদ্মাসেতু নির্মানে আমরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তবে তার আগে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে আমরাও কথা বলতে পারি। আর মেট্রোরেল তৈরিতে সহযোগিতা করা যায় কিনা সে বিষয়টা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের দূর্নীতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রশ্নোত্তরে জাপানি উপ-প্রধানমন্ত্রী। ওকাদা বলেন, বাংলাদেশের মানবধিকার পরিস্থিতির কিছু সমস্যা আছে এবং এর সমাধান রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। ... দূর্নীতি দমনের যে পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশ নিয়েছে সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। কেননা জাপানের করদাতা জনগণ তাদের টাকার সঠিক ব্যবহার দেখতে চায়
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রশ্নে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী।
পান্থ রহমান

বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১২

ঢাকায় জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতু এবং ঢাকার মেট্রো রেল নির্মানে অর্থায়ন নিয়ে জাপানের সঙ্গে আশাব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে। সফররত জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানায় পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়।
দুপুরে জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদা দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌছালে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি।
পরে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। সেখানে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ সহযোগিতার ক্ষেত্র বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে।
পরে কাতসুয়া ওকাদা দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করার জন্য নানান পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় ওই বৈঠকে।
সন্ধ্যায় জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী যান বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে। সেখানে জাতীর পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী।
পান্থ রহমান

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিফিং

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি বলেছেন, চলমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয়। তাছাড়া কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে কিংবা অভ্যন্তরীন মানবাধিকার পরিস্থিতি কী; এ নিয়ে কোন নির্দিষ্ট দেশের কাছে জবাবদিহি করবে না সরকার। মার্কিন পরাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সফরে পার্টনারশীপ ডায়লগ এর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদা, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আর ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরের বিস্তারিত জানাতেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলন। বাংলাদেশের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পদ্ধতি’ খোঁজা পরামর্শ্য দিলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, এসব অভ্যন্তরীন ব্যপার। ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার প্রশ্নে শঙ্কা প্রকাশ করলেও মানবাধিকার পরিস্থিতি অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো বলেই দাবী করলেন মন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি বলেন, গণতান্ত্রিক পক্রিয়ার হিসেবে সরকার জবাবদিহি করবে জনগণের কাছে। অন্য কোন দেশের কাছে জবাবদিহি করার প্রশ্ন তো অবান্তর। তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীর মতো একজন রাজনীতিবিদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া অবশ্যই উদ্বিগ্নের। তবে এও ঠিক অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এখন মানবাধিকার পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। কারণ একটা সময় এসেছিলো যখন ২১ আগষ্টের বোমা হামলা কিংবা সাংসদ হত্যাকান্ডের পর পুলিশ মামলাও গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে এ নিয়ে হরতাল ডেকে মানুষকে অসস্তির মধ্যে ফেলার রাজনীতি থেকে দূরে সরে আসতে হবে।
মন্ত্রী জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘পার্টনারশিপ ডায়ালগ’ এর ঘোষণা আসতে পারে। বলেন, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে প্রতি বছর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আলোচনা হবে এই প্ল্যাটফর্মের আওতায়।
টিকফা চুক্তির প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উত্তর, এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় দূরত্ব অনেক কমে এসেছে। টিকফা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে এসেছে। তবে হিলারির এই সফরে টিকফা চুক্তি হবে কি না তা নিশ্চিত করেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরে পানি, যোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানান মন্ত্রী। বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানী ৩শ মিলিয়ন থেকে বিলিয়নে গিয়ে ঠেকেছে।
মন্ত্রী বলেন, জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সফরে পদ্মা সেতু ও ঢাকার মেট্রো রেল প্রকল্পে অর্থয়ানের বিষয়টি আলোচনায় আসবে।
পান্থ রহমান

বুধবার, ২ মে, ২০১২

বৃহস্পতিবার আসছেন জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী কাকসুয়া ওকাদা। দুপুর সোয়া বারোটায় তার ঢাকা পৌছানোর কথা। দুই দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি এবং বিরোধী দলীয় নেত্রীর সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠকে ঢাকার মেট্রো রেল ও পদ্মাসেতুতে জাপানের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ডক্টর গওহর রিজভী।
স্বল্পসূদে ঋণ কিংবা বিনাশর্তে অনুদান; যে কোন হিসেবেই জাপানকে বলা হয় বাংলাদেশের সবচে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। জাপান সরকারের শীর্ষস্থানীয়; এই উপ-প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের এজেন্ডাতেও তাই গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পাচ্ছে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলোই। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডক্টর গওহর রিজভী জানিয়েছেন, আরও কোন কোন খাতে দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াতে পারে; তাই হবে আলোচ্য। সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ডক্টর গওহর রিজভী বলেন, ঢাকার জন্য মেট্রো রেল স্থাপনের জন্য জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার মাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সেই বিষয়টি এবারের এই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। পদ্মা সেতু তৈরিতে জাপানের কাছ থেকে অর্থ সহযোগিতা পাওয়ার বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ জাপানিদের সহযোগিতার জন্য অর্থ ও চিকিৎসক দিয়ে পাশে দাড়ানোয় জাপান বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের চার দশক উপলক্ষে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করাই সফরের উদ্দেশ। ডক্টর গওহর রিজভী বলেন, জাপান বাংলাদেশের খুব ভালো বন্ধু এবং সেই বন্ধুত্ব ধরে রাখা ও আরও সূদৃঢ় করাই হবে সফরের লক্ষ।
বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে ওকাদা জাপান সরকারের সহায়তাপুষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঘুড়ে দেখবেন বলে জানান ডক্টর রিজভী।
পান্থ রহমান

মঙ্গলবার, ১ মে, ২০১২

গুরুত্বপূর্ণ তিন সফর নিয়ে গওহর রিজভী

জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদা, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আর ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফর শুধুই সম্পর্ক উন্নয়ন নয় বরং এ থেকে সফরে নগদ প্রাপ্তির সম্ভবনাও থাকছে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ডক্টর গওহর রিজভীর মতে, এই তিন শীর্ষ নেতার ঢাকা সফর বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সিগন্যাল। আর সে কারনেই এ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার।
ব্যস্ত হয়ে উঠেছে কূটনৈতিক অঙ্গন। মাসের প্রথম সপ্তাহেই তিন শীর্ষ নেতার বাংলাদেশ সফর নিয়ে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। বেলারুশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী  সের্গেই আলেইনিকের ঢাকা সফর শেষ হতে না হতেই আগামী ৩ মে আসছেন জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদা। আর সময় ভিন্ন হলেও একই দিন; ৫ মে ঢাকায় পা রাখবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দুই ‘ক্যারেক্টার’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন আর ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, এবারের এই সফরগুলো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহন করছে।
জাপানি উপ-প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘সম্পর্ক উন্নয়ন’-এর তকমা দেওয়া হলেও; নগদ প্রাপ্তির সম্ভবনাও থাকছে। তবে ‘কী আর কতটা পাওয়া যাবে’ তা খোলাশা করেননি এই উপদেষ্টা। জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি আর স্থিতিশীলতার পাশাপাশি থাকবে বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয়গুলো। আর ভারতের সঙ্গে আলোচনায় আসবে ঝুলে থাকা বিষয়গুলো।
গওহর রিজভী বলেন, প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফর মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পালন হলেও দুই দেশের মধ্যে ‘আলোচ্য বিষয়’গুলো নিয়েও কথা বলবেন তিনি।
ডক্টর গওহর আশা করেন, সপ্তাহজুড়ে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতি পরাশক্তি তিন দেশের শীর্ষস্থানীয়দের সফর বাংলাদেশকে লাভবানই করবে।
পান্থ রহমান