পৃষ্ঠাসমূহ

শনিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১২

মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন: বিএসএফ-এর নির্যাতন বেড়েছে


ঢাকা, ২৪ নভেম্বর:

শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিশ্রুতির পরও বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যা বন্ধ করেনি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, বিএসএফ। বরং গত বছরের তুলনায় সীমান্তে হত্যা বেড়েছে। ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা হত্যা করেছে ৩৩ বাংলাদেশিকে। নতুন এই তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা ‘অধিকার’।

অধিকারের এই জরিপ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ‘জাতীয় সভায়’ যোগ দেওয়া রাজনীতিকরা এই প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত হয়ে বলছেন, হত্যা বন্ধ না হলে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট কাটবে না বরং ধীরে ধীরে বাড়বে। এই ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে দেন-দরবারে সব বাংলাদেশের সকল সরকারই ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন রাজনীতিকরা। তাদের আশা রাজনৈতিক ঐক্যমত।

সভার শুরুতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে নির্যাতিত বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হাবু তার ওপর নির্যাতনের দৃশ্য বর্ণনা করেন। হাবু বলেন, “ওরা আমাকে উলঙ্গ করে, তারপর বাঁশের সঙ্গে দু’হাত বেধে ফেলে। অনেকটা ক্রুশের মতো করে বাঁধে। এরপর লাঠি দিয়ে পেটায়। আমার শরীরে তারা পেট্রোল ঢেলে দেয়।”

হাবু বলেন, “ওরা মারতে মারতে আমার আধমরা করে ফেলে। তারপর আমাকে সরিষা ক্ষেতের মধ্যে ফেলে দেয়। ওরা ভাবে আমি মরে গেছি।”

প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন বিএসএফ-এর হাতে নিহত আরেক বাংলাদেশি সানাউল হকের ভগ্নিপতি। এরপরই সভায় যোগ দেওয়া অতিথি এবং বাম দল ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, “বাংলাদেশ এখনও বিশ্বাস করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হবে। কিন্তু এরকম ভাবে সীমান্তে বিএসএফ হত্যা অব্যাহত রাখলে সেই সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে।”

সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষে দলটির ভাইস-চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, “ক’দিন আগে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভারত সফর করেছেন। তখনও ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এবং এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রীও সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার কথা বলেছেন। কিন্তু সেই প্রতিফলন নেই বরং উল্টো আরও একটি সীমান্ত হত্যার খবর পাওয়া গেছে।”

শমসের মবিন বলেন, “এভাবে হত্যা চলতে থাকলে দুই দেশের মধ্যের অনাস্থা আরও বাড়বে। আস্থার সংকট মেটাতে প্রয়োজন এই ধরনের সমস্যাগুলো মেটানো।”

চাইনবাবগঞ্জের হাবিবুর রহমান হাবুকে নগ্নাবস্থায় পেটানোর উদাহরণ দিয়ে মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সেক্রেটারী বলেন, “ঘটনাগুলো নিয়মিত ঘটছে।”

তিনি হাবুর কথা টেনে বলেন, হাবুকে পিটিয়ে সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর সদস্যরা পৈচাশিক আনন্দ পায়। তবে পররবর্তীতে সেই ভিডিওচিত্রটি ভারতীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে পৌছে যায় দুনিয়ার মানুষের কাছে। ভয়াল সেই দৃশ্য এখনও গায়ে কাঁটা দেয় মানুষের। নিজের মুখে সেই নারকীয় ঘটনার বর্ণনা দিলেন হাবু। তার কথায় স্পষ্ট হলো, ভারতের শীর্ষ পর্যায় থেকে যত প্রতিশ্রুতিই আসুক, ব্যাক্তিগত স্বার্থহানী হলে ভারতের সীমান্তরক্ষীরা নির্যাতন বন্ধ করবে না।”

সভার বিষয় ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যা এবং বিএসএফ-এর মানবাধিকার লঙ্ঘন’। অতিথিরাও স্বীকার করে নেন, স্বাধীনতার পরে যারাই সরকারে গড়েছে কেউই ‘সীমান্ত হত্যা’ ইস্যুতে সফল হয়নি। বিএনপি নেতা শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, “কথাটি মিথ্যা নয়। বাংলাদেশে যে সরকারই এসেছে তাদের আমলেই ভারতের বিএসএফ-এর হত্যা অব্যাহত রয়েছে।”

অধিকারের তরফ থেকে আদিলুর রহমান জানান, “এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও বিএসএফ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। সে সময়ও হত্যাকান্ড কমেনি বরং আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি ছিলো।”

রাশেদ খান মেনন বলেন, “কোন সরকারই তাদের পররাষ্ট্রনীতিকে শক্ত করে গড়ে তুলতে পারেনি। বিশেষ করে যখন যে সরকার এসেছে তারা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়ে পররাষ্ট্রনীতি গড়েছে। তারা ভাবতেই পারেনি যে, তাদের বাইরে যে দলগুলো আছে তারাও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কিছু জানতে পারে।”

সীমান্তে হত্যা বন্ধের প্রশ্নে শুধু সরকার নয় বরং সর্বদলীয় ঐক্যের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন রাশেদ খান মেনন। সেক্ষেত্রে পররাষ্ট্রনীতি জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের ভিত্তিকে করার তাগিদ তাদের।

উল্লেখ্য, অধিকারের প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, কিশোরী ফালানি, কৃষক দুরুল হুদা কিংবা ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলো ঘটা করে সামনে এলেও ২০০০ থেকে ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিএসএফ হত্যা করেছে ৯৬৬ বাংলাদেশিকে। ২০১১ সালে বিএসএফ হত্যা করেছিলো ৩১ বাংলাদেশিকে আর এবছর অর্থাৎ ২০১২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিএসএফ হত্যা করেছে ৩৩ জন বাংলাদেশিকে।
পান্থ রহমান, ঢাকা

শনিবার, ১০ নভেম্বর, ২০১২

ওবামার পররাষ্ট্রনীতি: কিছু প্রশ্ন


বিশ্লেষণ (প্রথম আলো)
১০-১১-২০১২
ইতিহাস দিকনির্দেশক হয়ে থাকলে বারাক ওবামার পরবর্তী চার বছরের প্রধান এজেন্ডা হবে পররাষ্ট্রনীতি। প্রথম মেয়াদে তিনি অভ্যন্তরীণ যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই চার বছরে পররাষ্ট্রনীতিও নির্ধারণ করবেন। ইরান, রাশিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্য—প্রতিটি ক্ষেত্রে অসংখ্য বাধা থাকলেও কাজ করারও অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে তাঁর জন্য।
বিশ্বমঞ্চে এমন কিছু ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর সমাধান ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই ওবামার সামনে। নির্বাচনের কারণে বেশ কিছু পুরোনো ইস্যু ওবামা প্রশাসন বাক্সবন্দী করে রেখেছিল। কিন্তু এখন সেগুলো আবার সামনে নিয়ে আসবে তারা।
রিচার্ড এম নিক্সন যেমন চীনের সঙ্গে সম্পর্কের সূচনা করেন, রোনাল্ড রিগ্যান যেমন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে চিরবরণীয় হয়ে আছেন; ওবামাও চাইবেন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে এমন স্থায়ী কিছু করার। ওবামা ও ওবামা প্রশাসন অন্তত একটা বিষয়ে একমত, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারাটাই হবে বড় অর্জন। সেই লক্ষ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে পারে ওয়াশিংটন। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সামরিক অভিযান না চালিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে নিবৃত্ত করাটাই হবে ওবামার প্রধান লক্ষ্য।
নির্বাচনে ওবামার সাফল্যকে ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি অভিনন্দন জানিয়েছেন কি না, জানা যায়নি। কিন্তু ইরানের অব্যাহত পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইসরায়েলের একাই ইরানের ওপর হামলা চালানোর হুমকি পরিস্থিতি নাজুক করে তুলেছে। এ অবস্থায় ইরানও চাইবে এখন থেকে আগামী জুনের মধ্যে একটা সমঝোতায় পৌঁছাতে। জুনে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি জানান, এই সময়ের মধ্যে ওবামা প্রশাসন কিছু একটা অর্জন করতে পারলে সেটাই হবে তাদের জন্য নতুন শক্তি এবং তাদের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় সুযোগের সৃষ্টি করবে।
নিক্সন চীন সফর করে বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্কের যে বীজ বপন করেছিলেন, সেই সুযোগ হয়তো ওবামার সামনে নেই; কিন্তু তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে একটা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন।
এশিয়ায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পীতসাগর থেকে দক্ষিণ চীন সাগর পর্যন্ত মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে হবে। কিন্তু হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেস সামরিক ব্যয় না বাড়ালে বড় বাজেট ঘাটতিতে পড়বে পেন্টাগন। ফলে এশিয়ায়ও সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। এ ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো সংঘাতে না গিয়েই লক্ষ্য পূরণ করতে চাইবে যুক্তরাষ্ট্র।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি করে রাশিয়ার সঙ্গে নবযুগের সূচনার সুযোগ রয়েছে ওবামার সামনে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। গত মার্চে তখনকার রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার মধ্যকার আলোচনাও উল্লেখযোগ্য। ওবামা মেদভেদেভকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বিষয়ে তিনি ‘নমনীয়তা’ গ্রহণ করবেন। এদিকে ওয়াশিংটনে একটি বিশেষজ্ঞ দল গোপনে কৌশলগত অস্ত্র হ্রাসকরণ চুক্তির খড়সা নিয়ে কাজ করছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের আর্মস কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভের পরিচালক স্টিভেন পিফার জানান, এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ওবামার।
ওবামার পররাষ্ট্রনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য অগ্রাধিকার হলেও সেখানকার পরিস্থিতির কারণে তিনি কোনো সাহসী পদক্ষেপ নিতে পারবেন না। একদিকে সিরিয়ায় চলছে দমন-পীড়ন, অন্যদিকে মিসরে ক্ষমতায় বসেছে মুসলিম ব্রাদারহুড। তাই প্রথম মেয়াদে মুসলিম বিশ্বের জন্য যে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন ওবামা, তা নিয়েই তাঁকে এবারও এগোতে হতে পারে।
ওবামার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি অমীমাংসিত বিষয় হচ্ছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তিচুক্তি করতে না পারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওবামা এই পথে পা বাড়ালে তাঁকে আরেক দফা হতাশায় পড়তে হবে। তা ছাড়া তাঁর সামনে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আগামী মাসে জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভের জন্য আবেদন করবেন। জাতিসংঘে তা গৃহীত হলে কংগ্রেসকে শুধু ফিলিস্তিনকেই নয়, জাতিসংঘকেও সাহায্য প্রদান

থ্রিজি সিমের সঙ্গে সেট দেবে টেলিটক


ঢাকা, নভেম্বর ০৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল সংযোগের সঙ্গে মোবাইল ফোনসেট বিক্রি করবে রাষ্ট্রায়ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীতে থ্রিজি সংযোগসহ সেট বিক্রি করবে টেলিটক।

টেলিটকের থ্রিজি সেবা জনপ্রিয় করার জন্য বাজারে প্রচলিত থ্রিজি মোবাইল ফোনসেটের চেয়ে কম দামে তা বিক্রি করা হবে বলে তিনি জানান।

সংযোগসহ সেটের মূল্য কি হবে জানতে চাইলে মুজিবর বলেন, “সুলভ মূল্যেই এ অফার দেয়া হবে যাবে সাধারণের নাগালে এ সেবা আসতে পারে। এ প্যাকেজ কিস্তির মাধ্যমে দেয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।”

বাজারে প্রায় এক লাখ থ্রিজি সিম ছাড়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গত ১৪ অক্টোবর থ্রিজি প্রযুক্তি উদ্বোধনের পর ৩০ হাজারের বেশি সিম বিক্রি হয়েছে।

থ্রিজি প্রযুক্তি চালু হলেও তেমন সাড়া পড়েনি গ্রাহকদের মধ্যে, একাধিক গ্রাহক জানিয়েছে থ্রিজি ফোনসটের দাম বেশি থাকায় থ্রিজি সিম কিনতে তারা উৎসাহ পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে মুজিবর বলেন, “থ্রিজি প্রযুক্তি বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা পেতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে হ্যান্ডসেটের সঙ্গে থ্রিজি সংযোগে জনপ্রিয়তা বাড়বে।”

টেলিটকের জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) হাবিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, থ্রিজি প্রযুক্তি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ধীরে ধীরে আগ্রহ বাড়ছে, শুরুতে যে পরিমান থ্রিজি সিম বিক্রি হয়েছে সে তুলনায় বর্তমানে সিম বিক্রি আরো বাড়ছে।

টুজি প্রযুক্তির তুলনায় থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ গতিতে তথ্য আদান-প্রদান সহজ। কেউ চাইলেই এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কল বা ভিডিও কনফারেন্স করতে পারবেন।

টেলিটকের থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোনে বিটিভির পাশাপাশি জিটিভি, আরটিভি, সময় ও মাইটিভি দেখা যাবে বলে টেলিটক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।

রাজধানীতে দেড় হাজার খুচরা বিক্রেতা এবং আটটি কাস্টমার সেন্টারে থ্রিজি সিম বিক্রি হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকার ৪ লাখ গ্রাহক থ্রি জি সুবিধা পাবেন। চলতি বছরই এই সুবিধা চট্টগ্রামে পাওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২

হিনা রাব্বানী ঢাকায়

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে নিঃর্শত ক্ষমা চাইতে বলেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানী খারকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি এ আহবান জানালে হিনা বলেন, বিভিন্ন সময় ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান, এখন পেছনের দিকে না তাকিয়ে সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে চান তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডি-এইট সম্মেলনের অনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পান্থ রহমানের রিপোর্ট।

উন্নয়নশীল আট দেশের জোট ডি-এইট সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রন জানাতে শুকবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার। সেখান থেকে সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বর্তমান সরকারের আমলে সফরে আসা প্রথম কোনো পাকিস্তানী মন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি।

এরপর দুপররাষ্ট্রমন্ত্রীর আধাঘন্টার বৈঠক। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিকের মধ্যে আলোচনা হয় আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়া, অবিভক্ত পাকিস্তানের সম্পদের হিস্যা দাবি, একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যাসহ নির্যাতনের জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ।
সার্ফেইস: (মিটিংয়ের ছবি)
পররাষ্ট্র সচিব জানান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গণহত্যার জন্য নানা সময় পাকিস্তান দুঃখ প্রকাশ করেছে।
মিজারুল কায়েস, পররাষ্ট্র সচিব।

পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, দু’দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠকের সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে এ মাসের শেষ সপ্তাহে পাকিস্তানে হতে যাওয়া হাতে ডি-এইট সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বিকেলে পাকিস্তানে ফিরে যাবেন হিনা রাব্বানি খার।
পান্থ রহমান

অতীতকে ভুলে সামনে তাকাতে বললেন হিনা


প্রথম আলো:
০৯-১১-২০১২
১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইতে বলেছে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান বলেছে, তারা অতীত ভুলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডি-৮ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে গতকাল শুক্রবার ঢাকায় আসা পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই আহ্বান জানানো হয়। তিনি সংক্ষিপ্ত সফরে গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রসচিব মিজারুল কায়েস।
বিমানবন্দর থেকে হিনা খার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিথিকক্ষে দীপু মনির সঙ্গে প্রায় আধঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পর পররাষ্ট্রসচিব তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের জানান ।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘হিনা খার মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডি-৮ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশে এসেছেন।
কাজেই দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে দীর্ঘ আলাপের কোনো সুযোগ ছিল না। তবে ’৭১-এর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া অমীমাংসিত বিষয়গুলোও উত্থাপন করা হয়েছে।’
ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি উত্থাপনের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলেছেন—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ কথা বলার সুযোগ এখানে ছিল না। আমরা আমাদের কথাগুলো বলেছি। তিনি আমাদের কথাগুলো শুনেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দেন বলে জানিয়েছেন। তবে অতীত ভুলে তিনি সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন।’
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় ডি-৮ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যাবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘এবারের সম্মেলনে ১৬ বছর পর ডি-৮-এর সনদ হবে। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আজই নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। যাবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত এক্ষুনি বলা সম্ভব নয়।’
প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে দুপুরে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ডি-৮ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন হিনা খার। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, আসন্ন ডি-৮ সম্মেলন ছাড়াও শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা ও হিনা খারের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধের সময় নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনাসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো সুরাহার প্রসঙ্গ ওঠে।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ: দুপুরে হোটেল রূপসী বাংলায় দীপু মনির দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন হিনা খার। সেখান থেকে বেলা পৌনে তিনটায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মেহেদি হাশমি কোরেশি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রায় ২০ মিনিট ছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকেরা মুখোমুখি হলে হিনা খার বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। এর আগে কখনো আমাদের সাক্ষাৎ হয়নি। তাই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি আনন্দিত।
সাক্ষাতে উপস্থিত থাকা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া ও হিনা খার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।
বিকেল চারটায় ঢাকা ছাড়েন হিনা রাব্বানি খার।

বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১২

আবারও বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের কৃতীত্ব


পাটের ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন॥ লাভবান হবে বাংলাদেশ-ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার চাষীরা
২০ সেপ্টেম্বর, ঢাকা:

অনেক চড়াই-উৎড়াই পার হয়েছে, তারপরও উদ্ভাবন করা যাচ্ছিলো না ঠিক কী কারণে পাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। বাংলাদেশ পাট গবেষণা কেন্দ্র এই নিয়ে চিন্তিত ছিলো যে, বছরে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পাট নষ্ট হয় প্রতিবছরে। কিন্তু কেন, কী এর প্রতিকার। এবারে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন বাংলাদেশেরই এক বিজ্ঞানী, মাকসুদুল আলম। তার নেতৃত্বেই উন্মচিত হলো পাটের জন্য ক্ষতিকর ছত্রাকের জীবন রহস্য। এখন সেই ছত্রাক বিনষ্ট করার কাজটাও খুব সহজ হলো।

এক সময় পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনও অনেকের কাছে অধরা ছিলো কিন্তু বাংলাদেশের এই বিজ্ঞানীই কিছুদিন আগে পাটের জীনন রহস্য (জিনোম) খুঁজে পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের এই জিন বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাটসহ বিশ্বের ৫০০টি উদ্ভিদের অন্যতম শত্রু ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছেন। তার মানেটা এমন, ছত্রাক কীভাবে ফসলের জৈব উপাদান নষ্ট করে, উৎপাদন কমিয়ে দেয়, তা খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

মাকসুদুল বলেছেন; “ম্যাক্রোফমিনা ফাসিওলিনা নামের ওই ছত্রাকের আক্রমণে শুধু পাটই নয় বরং দুনিয়াজুড়ে ৫০০টি উদ্ভিদের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ছত্রাকের আক্রমণে শুধু পাটের উৎপাদনই ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও এতদিনে এই ছত্রাকের কার্যপক্রিয়া জানা যাচ্ছিলো না। কিন্তু আমরা পেরেছি।”

তিনি বলেন, এখন কাজ বাকি অল্পই। ছত্রাকের আক্রমণ সহ্য করে টিকে থাকতে পারে এমন জাত উদ্ভাবন করে তা কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া, ব্যস।

বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পের আওতায় মাত্র এক বছরের মাথায় দেশের বিজ্ঞানীরা এই সফলতা পেলেন। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে এই প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত একটি গবেষণা কেন্দ্রে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এই কাজ করেছেন।

এই সফলতায় বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।  তিনি বুধবার সফলতার খবরটি দেয় সরাসরি প্রচারিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনেই। আর তাছাড়া একই দিন এই সুখবরটি প্রকাশিত হয় বিশ্বের বিজ্ঞানবিষয়ক অন্যতম বিএমসি জেনোমিকসে।

মাকসুদুল আলম বলেন, এত অল্প সুযোগ-সুবিধা নিয়েও তার শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম করায় এমন সফল হওয়া গেছে। তিনি গবেষণায় আরও টাকা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান।
পাট ও ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করার এই সাফল্য যেন বাংলাদেশ মালিকানা হিসেবে পায় (অর্থাৎ পেটেন্ট) তা নিশ্চিত তা নিয়েও অনেক কাজ করতে হচ্ছে তাদের। এরই মধ্যে পেটেন্টের আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাকসুদুল জানান, স্বল্প পানিতে পাট ধোঁয়া ও জাগ দেওয়া বা পচানোর মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করার জন্যও তাদের গবেষণা চলছে। তবে এর জন্য কৃষকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান এই বিজ্ঞানী।

মাকসুদুল বলেন, “এই ছত্রাকটি ধান, গম, ভুট্টা, সয়াবিন, তুলা, যবের মতো প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী ফসলগুলোও নষ্ট করে।”

উল্লেখ্য, বিশ্বের তিনটি ফসল, চারটি জীবাণুসহ মোট ১৯টি জীবের জীবনরহস্য উন্মোচনে গবেষক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের এই কৃতী বিজ্ঞানী। বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেঁপে, মালয়েশিয়ার জন্য রাবার ও বাংলাদেশের পক্ষে পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করে এরই মধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছেন বাংলাদেশের মাকসুদুল।

মাকসুদুল আলম বলেন, “একসময় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার একটা বড় অংশই দিতো পাট। পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। অথচ আমাদের এই পাট হারিয়ে গেলো। আমাদের পাট এবং পাটের প্রধান শত্রু ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আমরা পুনরায় আমাদের রাজত্ব উদ্ধার করতে পারবো। আমাদের কৃষকদের সোনালি দিন ফেরত দিতে পারবো।”

তিনি বলেন, “এই কাজটি শুধু বাংলাদেশই নয় বরং পাশ্ববর্তী দেশগুলো যেখানে পাট উৎপান হয় যেমন ভারত, তারাও সুফল পাবে। কেননা, এসব অঞ্চলে পাটের শত্রু হিসেবে পরিচিত এই ছত্রাক।”


জানা গেছে, ২০ বছর আগে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাই সাদা আঁশের পাটের একটি লাইন (ঠিক জীবন নয় বরং জীবনের একটা অংশ) উদ্ভাবন করেছিলেন। সেই পাট সাদা আঁশযুক্ত এবং তা ব্যবহার করতে প্রক্রিয়াজাতকরণের দরকার হয় না; সরাসরি কাপড় তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।

মাকসুদুল আলম কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এত দিন জেনোমবিষয়ক যাবতীয় তথ্য উন্নত বিশ্বের তথ্যভান্ডার থেকে শুধু সংগ্রহই করেছে। কিন্তু এখন সে তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করতে আমাদের অংশগ্রহণ থাকলো। বিশ্ব দেখবে আমরা শুধু তথ্য নিই না, দিতেও পারি।
পান্থ রহমান, ঢাকা`

রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।।খালেদা জিয়া


ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আপিল বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, এই রায়ের ভিত্তিতে আয়োজিত কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবেন না।

বৃহস্পতিবার গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেন, “আমরা ঘোষণা করছি, সাবেক প্রধান বিচারপতির ওই রায় নৈতিকতা বিরোধী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। জনগণ কখনোই তা গ্রহন করবে না।

গত বছরের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আপিল বিভাগের দেয়া ৩৪২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।

ওই রায়কে ভিত্তি ধরেই গত বছরের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আনে মহাজোট সরকার, যাতে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।

এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানাতেই বিকালে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন বিরোধী দলীয় নেতা।

ওই রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের স্বাক্ষর করার বৈধ্যতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া বলেন, “নিদর্লীয় সরকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়ের কারণে চলমান আন্দোলনকে কেউ দুর্বল করতে পারবে না।”

একইসঙ্গে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করেন- “নির্দলীয় সরকার ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। জনগণ তা প্রতিহত করবে।”

নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের জন্য সরকারকে সংসদে বিল তোলার আহবান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “সরকার যদি সংবিধান সংশোধনের বিল পাস না করে, তাহলে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।”

অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গনি, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সহসভাপতি টি এইচ খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, সাংসদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, বিরোধী দলীয় নেতার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।