পৃষ্ঠাসমূহ

ঢাকা সফর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঢাকা সফর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৬ মে, ২০১২

প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফর


খালেদার সঙ্গে প্রণবের বৈঠক
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দল নয়, সব দলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক প্রত্যাশা করেন ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি এ প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর ওপর জোর দেন খালেদা জিয়া আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবেপ্রণব খালেদাকে জানান, তিনি একতরফা কোনো কিছু আশা করেন নাবাংলাদেশের সব দলের সঙ্গে ভারতে ভালো সম্পর্ক চানএতে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরো ভালো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন টিপাইমুখ বাঁধের কাজ শুরু হয়নি বলেও জানান প্রণবদুই দেশের ভালো হবে এজন্য যৌথ নদী কমিশনের অধীনে একটি জরিপ কমিটি করার কথাও জানান তিনি।
খালেদা এই কমিটিতে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ নেওয়ার অনুরোধ জানান‌একই সঙ্গে বাঁধের সব বিষয়ে তিনি দুই দেশের মানুষকে জানানোর অনুরোধ করেন এছাড়া ভারতের সঙ্গে ছিটমহলসহ অমীসমাংসিত বিষয়ের সমাধানের ওপর জোর দেন খালেদা জিয়া তিনি প্রণবকে সীমান্ত হত্যা বন্ধের অনুরোধ জানানএভাবে বারবার সীমান্তে মানুষ হত্যার কারণে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতের ব্যাপারে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন

ঋণের ২০ কোটি ডলার মওকুফ প্রণবের
১০০ কোটি ডলার ঋণের ২০ কোটি ডলার মওকুফ করবে ভারতএছাড়া এই ঋণের সুদের হারও কমাবে তারা। এমনই ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে এক মত বিনিময় সভায় তিনি অংশ নেনসেখানে তিনি ঘোষণা দেন, ভারত ওই অর্থ সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করবে, ঋণ হিসেবে নয় ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, এ ঋণের জন্য বাংলাদেশকে বছরে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবেপাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে ঋণ পরিশোধ করা যাবে
সম্পাদনা: পান্থ রহমান

হিলারির সফরের দ্বিতীয় দিন

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনি শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াকে এক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অনুরোধ করেছেন, আলোচনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে সমাধানে আসার। ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে তরুনদের সঙ্গে এক আড্ডায় এসব বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
দুই দিনের সফরের শেষ দিনে রাজধানীর এক স্কুলে ‘তরুণ বাংলাদেশিদের সঙ্গে আড্ডা’য় মেতেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। কথা বলেছেন, মন খুলে। তরুণদেরকে বাংলাদেশের ‘উন্নয়ন-নিয়ামক’ উল্লেখ করে হিলারি বলেন, উন্নয়নের পথে চ্যালেঞ্জ থাকে; সেগুলো মোকাবেলাও করতে হয়। বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা শ্রমিকনেতার মৃত্যুর মতো ঘটনা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে বাজে ধারণা দেবে। হিলারি বলেন, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের মৃত্যু কিংবা গুমের ঘটনাগুলো বাংলাদেশকে বাজে ভাবে বিশ্ব দরবারে প্রকাশ করবে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, খুন-হত্যা, গুমের মতো ঘটনায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি হিলারি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে দুই বড় দলের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
‘আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং তাদের বলেছি এক সঙ্গে কাজ করতে’।
নানান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নিজেদের ‘উপদেশ’ শোনান মার্কিন কূটনীতিকরা। এমনটা কেন করেন; জানতে চাইলে হিলারির জবাব, যুক্তরাষ্ট্র কেবল বিশ্ব শান্তির স্বার্থেই উপদেশ দেয়। হিলারির জবাব, আমাদের কাছে যারা সহযোগিতা চায় তাদেরই আমরা সহযোগিতা করি। তাদের উপদেশও দেই। তবে সব কিছুর পরও তার কথা, আমরা শুধু চাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুসংহত হোক।
বাংলাদেশের দূর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করে হিলারি বলেন, দূর্নীতি একটি দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়। এক প্রশ্নের উত্তরে হিলারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসলাম বিরোধী নয়। বরং মার্কিনিদের সম্পর্কে এমন ভুল ধারণায় তিনি ব্যাথিত। দুপুরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিমানে ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন হিলারি ক্লিনটন।
পান্থ রহমান

হিলারি ও প্রণবের সফর সম্পর্কে দীপু মনি

হিমালয় অববাহিকার নদীগুলোতে আন্তঃসংযোগ করবেনা ভারত। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিস্তার সমস্যার সমাধানেও আশ্বাস দিয়েছেন প্রণব মুখার্জি। বিকেলে হিলারিকে বিদায় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে।
বাংলাদেশ সফরে প্রণব মুখার্জির আনুষ্ঠানিক বৈঠক; পররাষ্টমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনির সঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে ‘দেনা-পাওনা’ আর ‘প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি’ই আলোচ্য। ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি আর সমাধানের অপেক্ষায় থাকা সীমান্ত সমস্যার পাশাপাশি কথা হয়েছে, টিপাইমুখে বাঁধ আর অভিন্ন নদীর পানি বন্টন নিয়ে। ডাক্তার দীপু মনি বলেন, তিস্তার ইস্যু নিয়ে আলোচনা চলছে; ওরা বলেছে দ্রুতই সমাধা হয়ে যেতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লী সফরে উল্লেখিত ‘কাঠামো চুক্তি’র আওতায় যৌথ কমিশনের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লী যাচ্ছেন তিনি। অন্যান্য ইস্যুগুলোর মধ্যে আলোচনা হবে, সীমান্ত হত্যার ইস্যুতেও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ (শনিবার) রাতেই দিল্লী রওনা হচ্ছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পালন ও যৌথ কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে। আলোচনা হবে, সব বিষয়ে।
এর আগে কুড়ি ঘন্টার ঝটিকা সফর শেষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি। সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, হিলারির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিরোধী দলের উচিৎ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসা। হিলারির বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি বলেন, সংসদই হওয়া উচিৎ গণতন্ত্র চর্চার স্থান।
দীপু মনি বলেন, হিলারি বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক ভালো ভালো কথাও বলেছেন। তবে সব পত্রিকা খারাপ কোটগুলো দিয়ে সংবাদ প্রচার করেছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত এক খুনি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আছে। হিলারি বলেছেন, তিনি দেশে ফিরে গিয়ে বিষয়টি রিভিউ করতে নির্দেশ দেবেন। তারপর কী করা যায় তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ মাধ্যমের প্রতি অভিযোগ তুলে দীপু মনি বলেন, হিলারির তোলা রাজনৈতিক অস্থিরতা, খুন-গুমের ঘটনাই পত্রিকায় প্রাধান্য পেয়েছে; বাংলাদেশ সরকারের সাফল্যের কথাগুলো নয়।
পান্থ রহমান

শনিবার, ৫ মে, ২০১২

হিলারির সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশে চলমান সমস্যাগুলোর সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পাশে থাকবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ ফ্লাইটে চীন থেকে বিকেল ৪টা চল্লিশ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌছান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন। বিশ্বরাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি।
সন্ধ্যা ছ’টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দীপু মনি আর ৯ সদস্য নিয়ে বৈঠক করেন হিলারি ক্লিনটন। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সুশাসন, রাজনীতি, অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রাধান্য পেয়েছে সহযোগিতার ইস্যুগুলো।
ডাক্তার দীপু মনি বলেন, আমাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুহসংহত হওয়া প্রয়োজন আর প্রয়োজনে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
প্রশ্নোত্তরে সাংবাদিকদের হিলারি জানান, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, খুন কিংবা গুমের মতো ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নজরে এসেছে।
হিলারি বলেন, এ জাতীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে সরকারকে। রাজনীতি মানুষেরই স্বার্থে হওয়াই বাঞ্চনিয় বলে মন্তব্য তার।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে হিলারি বলেন, গণতন্ত্রই একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা দেয়; আর তাই গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করতে সংলাপ জরুরী।
‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ নির্বাচন ও নির্বাচন পদ্ধতির স্বার্থে দুই দলের এক সঙ্গে কাজ করাটা জরুরী’, বলেছেন হিলারি।
দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক ধরে রাখতে প্রতিবছর দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে বৈঠক আয়োজনের জন্য সই হয় ‘অংশীদারী সংলাপ’ চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে চুক্তি সই করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পান্থ রহমান