পৃষ্ঠাসমূহ

শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১২

জেনারেল জ্যাকবের মুক্তিযুদ্ধ স্মরণ

স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল জ্যাকবের মতে, মুক্তিযোদ্ধারা সাহস না দেখালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসতো না। চ্যানেল আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারত শুধু সহযোগিতা করেছে মাত্র। আসল কাজটা ছিলো বাঙালীদেরই। ১৬ই ডিসেম্বর বাংলার মানুষের সামনে পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পণ করার দিনটির বর্ণনা করেন জেনারেল জ্যাকব।
ডিসেম্বর ১৯৭১। পূর্ব পাকিস্তানে তখনও আক্রমন চলছে হানাদার, পশ্চিম পাকিস্তানীদের। আক্রমন ঠেকাতে বাঙালীদের আত্মবিসর্জন চলছেই। বন্ধুর মতো পাশে দাড়ানো মিত্রবাহিনীও লড়ে চলেছে সমান তালে। গুলি আসছে। যাচ্ছে পাল্টা জবাব।
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ। হঠাৎ বদলে গেলো যুদ্ধের চেহারা। গোলাগুলির বদলে শুরু হলো কূটনৈতিক যুদ্ধ। সেখানেও বাঙালীদের পাশে যথারীতি মিত্রবাহিনী। কূটনীতির সেই ত্রিমুখি আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ছিলো বিশ্বের পরাশক্তিদেরও। পক্ষে-বিপক্ষে ছিলো নানা যুক্তি। কিন্তু সব ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে একটি শব্দ ‘আত্মসমর্পণ’।
৭১-এ ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ লে. জে. (অব:) জ্যাক ফ্রেডেরিক রালফ জ্যাকব বলেন, আমি নিয়াজির কাছে আত্মসমর্পণের কাগজ নিয়ে যাই কিন্তু সে হঠাৎ চিৎকার দিয়ে ওঠে, তোমাকে কে বলেছে যে আমি আত্মসমর্পণ করবো? আমি পতুত্তরে জানাই, তুমি আত্ম সমর্পণ না করলে তোমার পরিবারের দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না। আর করলে তাদের দায়িত্ব আমার। তুমি যদি আত্মসমর্পণ না কর তাহলে আমি রক্ত দিয়ে হলেও আমার হাত ধুয়ে নেবো।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় সেদিন পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করলেও পরে অভিযোগ ওঠে ... ওটা ভারতের কূটনীতি নয় ছিলো কূটচাল। পাকিস্তানের সেনা নেতৃত্ব অভিযোগ করে, জেনারেল জ্যাকব তাদের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করেছিলেন। জ্যাকব হাসেন, যেন বলতে চাইলেন ... এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়্যার; আমি নিয়াজিকে কোন রকম শর্ত ছাড়া জনসম্মুখে আত্মসমর্পণ করতে বলি। ওর রাজি না হওয়ার কোন কারণ ছিলো না। আমি তাকে গার্ড অফ অনারও দিতে বলি। অবশেষে সেই ঘটনা ঘটে। আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান। লে. জে. (অব:) জ্যাক ফ্রেডেরিক রালফ জ্যাকব বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ডাক বাঙালীদের জন্যে টনিক। বলেন, বাঙালীরা ছিলো, স্বাধীনতা পাগল, সাহসী, দূর্নিবার।
লে. জে. (অব:) জ্যাক ফ্রেডেরিক রালফ জ্যাকব, তাকে সম্মান জানানোয় বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, চার দশকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে এবং যাবে আরও বহুদূর।
পান্থ রহমান

বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ, ২০১২

এবার মহাকাশ কক্ষপথে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’

তিন বছরের মধ্যে মহাকাশে স্থাপিত হবে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট ... ‘বঙ্গবন্ধু-১’। নিজস্ব এই স্যাটেলাইট স্থাপনার জন্য আজ মার্কিন প্রতিষ্ঠান এসপিআই-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশের বিটিআরসি। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল রূপ দেওয়ার লক্ষ পূরণেই সরকারের এই উদ্যোগ।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। ১৯৫৭। সোভিয়েত তখনও অক্ষত। অর্থ, সম্পদ আর প্রযু্িক্ততে মহা শক্তিধর। নিজেদের প্রযুক্তিগত শক্তিকে প্রতিপক্ষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই মহাকাশে স্থাপন করে ‘স্পুটনিক-ওয়ান’ নামের স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ।
স্পুটনিক ছিলো মানুষের তৈরি প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ। এর আগে চাঁদকেই পৃথিবীর চারপাশে একমাত্র উপগ্রহ হিসেবে জেনেছে মানুষ। কিন্তু স্পুটনিকের পর সেই সংখ্যা এখন হাজার ছাড়িয়েছে। বিশ্বের মাত্র দশটি দেশ নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারলেও পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরছে ৫০ দেশের উপগ্রহ। এর মধ্যে উপমহাদেশের ভারত আর পাকিস্তানেরও আছে নিজস্ব উপগ্রহ। এবারে সেই তালিকায় যোগ হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।
২০০৯ সালে প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেক বিচার-বিশ্লেষণের পর বৃহস্পতিবার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী সহযোগি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেলো বাংলাদেশের।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজু বলেন, বাংলাদেশকে ডিজিটাল রূপ দিতে এই স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ আমাদের দারুণভাবে সহযোগিতা করবে। এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের আগ্রহই প্রমান করে যে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে বদ্ধ পরিকর। ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু যোগ করেন, বাংলাদেশের এখন অনেক দূরের পথ হাটতে হবে। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ, এর ভেতর থেকেই এগিয়ে যেতে হবে।
টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট এবং ব্রডকাষ্ট উন্নয়নে এই স্যাটেলাইট দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ এবং নীতি নির্ধারকরা।
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মে. জে. (অবঃ) জিয়া আহমেদ তার সূচনা বক্তব্যে জানান, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে প্রায় তিন কোটি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এই সংখ্যা এবং ইন্টারনেটের মান বাড়াতে উপগ্রহটি সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজিনা বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে দেখতে চায়। বাংলাদেশের এই উন্নয়নের পথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গে থাকবে বলেও আস্বস্থ্য করেন তিনি।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে চলা দেশের টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধু উপগ্রহ ব্যবহার করতে পারবে। তাতে খরচও কমবে।
পান্থ রহমান

বুধবার, ২৮ মার্চ, ২০১২

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বন্ধু লেয়ার লেভিনের স্মৃতিচারণ

মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে নিজের করা স্থির আর চলচ্চিত্র দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন অসহায় বাংলাদেশিদের জন্য। বিভিন্ন শিবির ঘুড়ে শরনার্থীদের পাশে দাড়িয়েছিলেন এই মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা ... লেয়ার লেভিন মুক্তিকামী বাংলাদেশিদের বন্ধু। স্বাধীন বাংলাদেশের আমন্ত্রনে ঢাকায় এসেছিলেন সম্মাননা নিতে। চ্যানেল আই-এর সঙ্গে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, চার দশকে বাংলাদেশের উন্নতি চোখে লাগার মতো।
১৯৭১ ... চারদিকে ডামাডোল। গুলির আওয়াজ। গুপ্ত হত্যা। অত্যাচার, নির্যাতন। ভয়, আতঙ্কে ... ভিটেমাটি ছাড়ছে মানুষ। ছুটছে দিকবিদিক।
দুদিন আগেও যে মানুষগুলোর গোছানো ঘর ছিলো, তারাই আজ ঘর ছাড়া। আশ্রয়হীন। যাদের গোলাভরা ধান ছিলো তারাই খেতে পাচ্ছে না। অনাহারে আছে কোলের শিশুটিও।
আসলেই কী স্বাধীনতা যুদ্ধ নাকি পাকিস্তান ভাঙার পায়তারা? বিদেশি বন্ধুরা হাত বাড়াতে বাড়াতে ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সন্দেহ কাটছে না, ধন্দে আছেন তখনও। কিন্তু কেউ কেউ দ্বিধাহীন। তাদের মতে, দ্বন্দ্ব যাই হোক ... মানুষ তো, মানুষই। তাদেরই একজন এই মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেয়ার লেভিন। নিজের করা চলচ্চিত্র দিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন লেভিন। শরনার্থী শিবিরে গিয়ে বাড়ালেন সহযোগিতার হাত।
সে সময়, মুক্তির ওই যুদ্ধে হাজারো মৃত মানুষকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেছি। দেখেছি অনেককে মৃত্যুর প্রহর গুনতে। ওই দৃশ্যগুলো আসলেই অনেক কষ্টের। বুঝতে দেরী হয়নি, এই মানুষগুলোর জন্য আমার কিছু করা দরকার। বিশ্বকে জানানো দরকার, এখানে আসলে কী ঘটছে!
মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধে পাকিস্তানীদের বর্বরতার ছবি তুলতে গিয়ে গ্রেফতারও হয়েছে এই চলচ্চিত্র নির্মাতা। তারপরও দমে যাননি মানুষটি। বুঝতে পেরেছিলেন, পাকিস্তানের এ প্রান্তের মানুষগুলো এখন অসহায়।
আমার স্ত্রী তখন সন্তান সম্ভবা। যে কারণে সে আমার সঙ্গে আসতে পারেনি। আমার ছেলেটার বয়স এখন ৪০। আমি আমার ছেলেকে জন্মাতে দেখেছি, যেমন দেখেছি বাংলাদেশ জন্ম নিতে। আর তাই, আমি আমার ছেলের মতো বাংলাদেশের জন্যও সাফল্য কামনা করি। ... আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি তোমাদের দেওয়া এই সম্মানে।
বাংলাদেশ আর এদেশের মানুষে মুগ্ধ ছিলেন লেয়ার লেভিন। এখনও তাই। আর তাই চার দশক পরও লেয়ার লেভিনের সেই মুগ্ধতাভরা প্রশ্ন, এখনও কী হেমন্তের বাসাতে দোলে গাঁয়ের কিশোরীর শাড়ির আঁচল?
আমি আমার চলচ্চিত্রে, বাংলাদেশের রূপ তুলে ধরার চেষ্টা করছিলাম। দেখাতে চেয়েছিলাম, কতটা প্রশান্তি নিয়ে একজন কৃষক মাঠে কাজ করে। কিভাবে ঢেউয়ের তালে তালে দুলে চলে নৌকা। বিকেলের মিষ্টি হাওয়ায় কিভাবে ললনার শাড়ির আঁচল উড়ে যায়, বাতাসের তালে তালে।
চার দশক পর হলেও বিদেশি সেই বন্ধুদের সম্মাননা জানিয়েছে বাংলাদেশ। লেয়ার লেভিন জানালেন, তিনি কৃতজ্ঞ। বললেন, তোমাকে অভিভাদন হে বাংলাদেশ।
পান্থ রহমান

রবিবার, ২৫ মার্চ, ২০১২

এ বছর যারা পদক পেলেন

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ক্ষেত্রে তথাকথিত আগরতলা ষডযন্ত্র মামলায় দুই নম্বর আসামি এবং ২৬ মার্চ ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে নিহত শহীদ লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (মরণোত্তর); বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে সিরাজগঞ্জে প্রতিরোধ যুদ্ধের সংগঠক এবং ১৯ মে ১৯৭১ তারিখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে নিহত সিরাজগঞ্জের তদানীন্তন মহকুমা প্রশাসক শহীদ আবুল কালাম শামসুদ্দিন (মরণোত্তর)।
ছাত্রী অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই চাঁদপুরে মুক্তিবাহিনীর চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনকারী এবং নির্যাতিত মহিলাদের সেবা প্রদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা  ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী; জন্ম আমার ধন্য হল মা গো- এর মতো বহু গণজাগরণমূলক গানের গীতিকার এবং ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তাবহনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা নয়ীম গহর।
চিকিৎসাবিদ্যা ক্ষেত্রে বিশিষ্ট চিকিৎসক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত; শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিসেবী ও খ্যাতনামা নজরুল গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সাহিত্যক্ষেত্রে বিশিষ্ট সাহিত্যিক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য আবুল ফজল (মরণোত্তর); গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে দেশের অগ্রণী কৃষিবিজ্ঞানী ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা।
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ ও দীর্ঘকাল দৈনিক সংবাদ-এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী মরহুম বজলুর রহমান (মরণোত্তর) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিশিষ্ট পদার্থবিদ ড. কামরুল হায়দার।
মনোনীত ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। এ ছাড়া মরণোত্তর পদকপ্রাপ্তদের পক্ষে তাদের পরিবারের সদস্যরা তা গ্রহণ করেন।
ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, নয়ীম গহর, প্রাণ গোপাল দত্ত, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, কাজী এম বদরুদ্দোজা এবং কামরুল হায়দার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেন।
মোয়াজ্জেম হোসেনের পক্ষে তার স্ত্রী কোহিনূর মোয়াজ্জেম, শহীদ আবুল কালাম শামসুদ্দিনের পক্ষে তার ছেলে আবুল কালাম সালাউদ্দিন, আবুল ফজলের পক্ষে তার মেয়ে মমতাজ জানাহ, বজলুর রহমানের পক্ষে তার স্ত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এই পুরস্কার নেন।
২০১২ সালে যারা স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন তাদের প্রত্যেকে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি মেডেল, দুই লাখ টাকার চেক এবং সম্মাননা পত্র দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেইন ভূইঞা।
বাংলাদেশ সময় : ১৪২৫ ঘণ্টা, মার্চ ২৫, ২০১২

বাংলাদেশের বন্ধুরা ঢাকায়

৭১‘এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের নৃসংসতাই বাংলাদেশের পক্ষে দাড় করিয়ে দিয়েছিলো বিদেশি বন্ধুদের। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এমনই বলেছেন, সম্মাননা নিতে আসা বাংলাদেশের সুহৃদরা। রেবাবার সকালে ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তারা।
১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে যখন বাংলাদেশে চলছে পাকিস্তানী হানাদারদের ভয়াল আক্রমন। ঠিক সে সময় নানা কারণে বাংলাদেশে অবস্থান করা বিভিন্ন দেশের সরকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও কর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্তারা দেখেন পাকিস্তানী বর্বরতা। কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করেন তারা। সাধ আর সাধ্য অনুযায়ি পাশে দাড়ালেন বাংলাদেশের। চোখের সামনেই পাকিস্তানের বর্বরচিত আচরণ আর নির্মমতা প্রত্যক্ষ করা এই মানুষগুলোকে ‘ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ’ নামে ডাকছে স্বাধীন বাংলাদেশ। সম্মাননা নিতে আসা সেই সব বন্ধুরা সকালে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।
স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পর সেই সব বন্ধুরা আবার ফিরে এসেছেন বাংলাদেশে। চার দশকে মাঝ বয়সী এই দেশটাকে দেখে অভিভূত তারা। আরও অভিভূত তাদেরকে সম্মান জানানোর এই উদ্যোগে।
সে সময়ের ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক সায়মন ড্রিং বলেন, এভাবে এ দেশে ফিরে আসাটা আনন্দের। আমি অভিভূত।
ভারতের লে. জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আমাদের সম্মান জানানো হচ্ছে তাতে আমি যার পর নাই আনন্দিত। আমি সত্যিই আনন্দিত যে বাংলাদেশ আমাদের মনে রেখেছে।
তাদের মতে ৪০ বছরে এ দেশ এগিয়েছে অনেক। আর তরুনরা দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখছে । তাদের আশা আগামীতেও তরুনদের হাত ধরেই সামনে এগিয়ে যাবে এই দেশ... এই সোনার বাংলাদেশ।
ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং তার জবানীতে বলেছেন, আমরা দেখেছিলাম পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী কিভাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন করেছে। কিভাবে অত্যাচার করেছে। আমাদের সহ্য হয়নি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি সহযোগিতা করার।
লে. জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব একাত্তরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে, বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের বর্বরতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ওরা নিষ্ঠুরতা করেছিলো।
ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে এই সম্মানিত বিদেশি নাগরিকরা যান নৌ ভ্রমনে। যেখানেই দুপুরের খাওয়া শেষে বিকেলে ঢাকায় ফিরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে যান এই বিদেশিরা। পরে সেখান থেকে শিখা চিরন্তনের সামনে স্মরণ করেন ১৯৭১-এর শহীদদের।
উল্লেখ্য, আগামী ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সম্মানিত করবেন মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা সে সব বীর বন্ধুদের।
পান্থ রহমান

শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১২

সম্মাননা পাবেন ‘ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ’

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সরাসরি সহযোগিতাকারীদের সন্মাননা দেওয়া হবে আগামী ২৭ মার্চ। স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে কাজ করা এই বন্ধুদের দেওয়া হবে বিশেষ নিরাপত্তাও। সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল তাজুল ইসলাম। তারা জানান, ১৩২ জন বিদেশীকে সন্মাননার জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে এসে পৌছেছেন অনেকে।
‘ফ্রেন্ডস অফ বাংলাদেশ’ ... ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যে সব বিদেশি নাগরিক সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিয়েও বাংলাদেশের পাশে দাড়িয়েছিলেন, তাদেরই ডাকা হয় এই নামে। মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে মুক্তিবাহিনীরা যখন সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত তখন সাতকোটি অসহায় বাংলাদেশিদের পাশে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেলেন এইসব মহান মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলো।
আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেনে জানানো হয়, সহযোগিতাকারী ওই বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী, সাংবাদিক, এনজিওকর্মীসহ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের সম্মানিত করবেন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।
মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে যারা বাংলাদেশ এবং এদেশের মানুষের পাশে দাড়িয়েছিলেন তাদের মধ্য থেকে প্রায় পৌনে একশ জন সম্মাননা নিতে আসা নিশ্চিত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি বলেছেন, এরই মধ্যে ৭৫ জন আমাদের কাছে নিশ্চিত করেছেন যে তারা সম্মাননা নিতে ঢাকা আসছেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অবঃ) তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সেই সব সুহৃদদের মধ্যে এরই মধ্যে পৌছে গেছেন বেশ ক’জন।
যুদ্ধকালিন সময়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতাকারী ও সেই সময়ের মার্কিন সিনেটর সিনিয়র স্যাক্সবি’র ছেলে উইলিয়াম বি. স্যাক্সবি জুনিয়র জানান, তারা আপ্লুত যে তার পিতাকে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ। দুই বছর আগে তার বাবা মারা যাওয়ায় তিনি তার পিতার সম্মাননা নিতে এসেছেন। সঙ্গে এসেছে তার ছেলেও।
চ্যানেল আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুনিয়র স্যাক্সবি শোনালেন, বাবার মুখে শোনা বাংলাদেশের গল্প। বললেন, আমাদের জন্য তিনি গর্বের। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এতটা সম্মানের জানার পর দারুণ লেগেছে।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য গত বছর ২৫ জুলাই ভারতের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধিকে ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা’ দেওয়া হয়। তিন ধরনের সম্মাননার মধ্যে বাকিদের দেওয়া হবে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রি সম্মাননা’।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হোক এটা চায়না বিরোধী দল। তারা চায় আওয়ামী লীগ সরকার যেন বিপদে পরে।
মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতাকারী বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর প্রসঙ্গ উঠলে তিনি আরও বলেন, তারিখ ঠিক না হলেও দূতাবাস কর্মকর্তা খুনের তদন্তে সহসাই আসবে সৌদি তদন্ত দল।
আইএসআই এর কাছ থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার টাকা নেওয়ার ইস্যুতে তিনি বলেন, আমরা ট্রান্সক্রিপ্টটা পাওয়ার চেষ্টায় আছি।

শুক্রবার, ২৩ মার্চ, ২০১২

এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল বিশ্লেষণ

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও নির্বাচক ফারুক আহমেদের মতে, পাকিস্তানের ইনিংসে করা বাংলাদেশের শেষ ওভার আর সাকিবের আউটই পরাজয়ের ক্ষেত্রে টার্নিং পয়েন্ট। তারপরও এশিয়াকাপ থেকে বাংলাদেশের অর্জনকে ছোট করে দেখতে রাজি নন তিনি। বরং এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রতি জোড় দেন সাবেক এই ক্রিকেটার। আর মাশরাফির মতে, বাংলাদেশ এখন বড় দল হওয়ার পথে।
ধারাবাহিকতা, এশিয়াকাপ হাতে না উঠলেও টুর্নামেন্ট জুড়ে বাংলাদেশের এটাই বড় অর্জন। ব্যাট হাতে ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামীমের ২৫৩, সাকিবের ব্যাটে ২৩৭ রানের সঙ্গে ৬ উইকেট, নাসিরের ১৬৫ কিংবা নিজেকে ফিরে পাওয়া মাশরাফি মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো। এসব মিলিয়েই বাংলাদেশ নামের সঙ্গে বিশ্বসেরারা জুড়ে দিয়েছেন একটি শব্দ ‘টিম-স্পিরিট’। একেই অর্জন হিসেবে দেখছেন দেশের সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটাররা।
পেইসার মাশরাফি বিন মর্তুজার মতে, বাংলাদেশ এ ধরনের অবস্থার মধ্যে পরে অভ্যস্থ নয়। তবে সুখের কথা হচ্ছে, আমরা এ রকম অবস্থার মধ্যে পড়তে শুরু করেছি। এবং এভাবেই আমরা নিজেদের তৈরি করে নিতে পারবো। প্রায় একই রকম মত জাতীয় সাবেক ক্রিকেটার এবং নির্বাচক ফারুক আহমেদের, বাংলাদেশের বড় অর্জন হলো ‘একটা দল’ হয়ে খেলতে পারা। বাংলাদেশের যে যোগ্যতা আছে সেটা তারা প্রমান করে দিয়েছে। এখন শুধু সেই ধারাবাহিকতাটুকু ধরে রাখতে হবে।
পরাজয়ের পোষ্টমর্টেম করতে গিয়ে সাবেক এই ক্রিকেটার ও নির্বাচক বলেছেন, ফাইনালের টার্নিং পয়েন্ট দুটি। পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ ওভারে শাহাদাতের করা শেষ ওভার আর সাকিবের আউট। তবে তারপরও বাংলাদেশ যা পেয়েছে তাই অনেক।
তবে সাবেক এই নির্বাচকের মতে, এখন পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বরং নিজেদের সেরা দল হিসেবে গড়ে তোলাটাই জরুরী। ফারুক বলেন, বড় দল হয়ে উঠতে হলে এমন কিছু দেখাতে হয় যা বাংলাদেশ দেখাতে পেরেছে।
আর বিশ্ব ক্রিকেটের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসাকে শক্তি হিসেবে নিয়ে নিজেদের শক্ত দল তৈরিতে ‘ধারাবাহিক’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটাররা।

২.
এশিয়া কাপ দিয়েই ক্রিকেটবিশ্বে বড় শক্তি হয়ে ওঠার আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র দুই রানের জন্য এশিয়া সেরার মুকুট না পেলেও যোগ্যতা প্রশ্নে এই দলটি পেয়েছে ‘একশ তে একশ’! কাপ না জেতার আফসোস থাকলেও ক্রিকেটাররাও মনে করেন, এই টুনর্মামেন্ট অনেক দিয়েছে বাংলাদেশকে। এখন জরুরী এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
‘ইস্’ ... এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষে কোটি বাংলাদেশির মুখে উচ্চারিত ধ্বনি! মাত্র দুই রানের আক্ষেপ! হতে হতেও পূরণ না হওয়া এক স্বপ্নগল্পের সমাপ্তি হলো কান্নায়। পুরো বাংলাদেশের মতো চোখের জলে ভেসেছেন ক্রিকেটের বীর সেনারাও।
চোখেমুখে হতাশার ছবি স্পষ্ট। তিন সাবেক বিশ্বসেরাদের টপকে এশিয়া সেরা হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়নি ঠিকই তবে, ওই চোখের জলেই লেখা হয়ে গেছে অন্য রকম এক ক্রিকেট কাব্য। যেখানে লেখা হয়েছে, ‘আন্ডারডগ’-এর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসছে আরেকটি নাম, বাংলাদেশ। জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার মতে, আমরা নিজেদের সেরাটা দেখিয়েছি। যদিও জিততে পারি নাই তবে সেটা সম্ভবই হলেও হতে পারতো।
আর সাকিব আল হাসান মনে করেন, বাংলাদেশের এই অর্জনটা ধরে রাখতে প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আগামী ছয় মাস বাংলাদেশের কোন খেলা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার নিজের অবশ্য সমস্যা নেই, ছুটি নেই তবে অন্যদের নিজেদের মতো করে প্র্যাকটিস করে যেতে হবে।
হেরে যাওয়ার কারণ এবং নিজের পারফরমেন্সের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মাশরাফি বলেন, আমি একটা সিঙ্গেলস নিয়ে সাকিবকে দিতে চেয়েছিলাম। তবে সেটা হলো না। দূর্ভাগ্য।
তবে তিনি মনে করেন, ঘরের মাটি আর চীরায়ত ক্রিকেটীয় ধারাবাহিকতার বিবেচনায় ফেভারিট হিসেবে খেলতে নেমেও অল্পতে হার মানা বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মনে করেন, এই টুর্নামেন্ট তাদের দিয়েছে অনেক।
টুর্নামেন্ট জুড়ে ‘একটা দল’ হয়ে খেলা বাংলাদেশ মাঠে থাকবে না দীর্ঘ সময়। ধারাবাহিক হয়ে ওঠা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য তা কতটা সুখের সেটা নিয়েই এখন ভাবনা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের।