পৃষ্ঠাসমূহ

পাকিস্তান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পাকিস্তান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১২

জেনারেল জ্যাকবের মুক্তিযুদ্ধ স্মরণ

স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল জ্যাকবের মতে, মুক্তিযোদ্ধারা সাহস না দেখালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসতো না। চ্যানেল আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারত শুধু সহযোগিতা করেছে মাত্র। আসল কাজটা ছিলো বাঙালীদেরই। ১৬ই ডিসেম্বর বাংলার মানুষের সামনে পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পণ করার দিনটির বর্ণনা করেন জেনারেল জ্যাকব।
ডিসেম্বর ১৯৭১। পূর্ব পাকিস্তানে তখনও আক্রমন চলছে হানাদার, পশ্চিম পাকিস্তানীদের। আক্রমন ঠেকাতে বাঙালীদের আত্মবিসর্জন চলছেই। বন্ধুর মতো পাশে দাড়ানো মিত্রবাহিনীও লড়ে চলেছে সমান তালে। গুলি আসছে। যাচ্ছে পাল্টা জবাব।
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ। হঠাৎ বদলে গেলো যুদ্ধের চেহারা। গোলাগুলির বদলে শুরু হলো কূটনৈতিক যুদ্ধ। সেখানেও বাঙালীদের পাশে যথারীতি মিত্রবাহিনী। কূটনীতির সেই ত্রিমুখি আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ছিলো বিশ্বের পরাশক্তিদেরও। পক্ষে-বিপক্ষে ছিলো নানা যুক্তি। কিন্তু সব ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে একটি শব্দ ‘আত্মসমর্পণ’।
৭১-এ ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ লে. জে. (অব:) জ্যাক ফ্রেডেরিক রালফ জ্যাকব বলেন, আমি নিয়াজির কাছে আত্মসমর্পণের কাগজ নিয়ে যাই কিন্তু সে হঠাৎ চিৎকার দিয়ে ওঠে, তোমাকে কে বলেছে যে আমি আত্মসমর্পণ করবো? আমি পতুত্তরে জানাই, তুমি আত্ম সমর্পণ না করলে তোমার পরিবারের দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না। আর করলে তাদের দায়িত্ব আমার। তুমি যদি আত্মসমর্পণ না কর তাহলে আমি রক্ত দিয়ে হলেও আমার হাত ধুয়ে নেবো।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় সেদিন পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করলেও পরে অভিযোগ ওঠে ... ওটা ভারতের কূটনীতি নয় ছিলো কূটচাল। পাকিস্তানের সেনা নেতৃত্ব অভিযোগ করে, জেনারেল জ্যাকব তাদের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করেছিলেন। জ্যাকব হাসেন, যেন বলতে চাইলেন ... এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়্যার; আমি নিয়াজিকে কোন রকম শর্ত ছাড়া জনসম্মুখে আত্মসমর্পণ করতে বলি। ওর রাজি না হওয়ার কোন কারণ ছিলো না। আমি তাকে গার্ড অফ অনারও দিতে বলি। অবশেষে সেই ঘটনা ঘটে। আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান। লে. জে. (অব:) জ্যাক ফ্রেডেরিক রালফ জ্যাকব বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ডাক বাঙালীদের জন্যে টনিক। বলেন, বাঙালীরা ছিলো, স্বাধীনতা পাগল, সাহসী, দূর্নিবার।
লে. জে. (অব:) জ্যাক ফ্রেডেরিক রালফ জ্যাকব, তাকে সম্মান জানানোয় বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, চার দশকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে এবং যাবে আরও বহুদূর।
পান্থ রহমান

শুক্রবার, ২৩ মার্চ, ২০১২

এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল বিশ্লেষণ

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও নির্বাচক ফারুক আহমেদের মতে, পাকিস্তানের ইনিংসে করা বাংলাদেশের শেষ ওভার আর সাকিবের আউটই পরাজয়ের ক্ষেত্রে টার্নিং পয়েন্ট। তারপরও এশিয়াকাপ থেকে বাংলাদেশের অর্জনকে ছোট করে দেখতে রাজি নন তিনি। বরং এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রতি জোড় দেন সাবেক এই ক্রিকেটার। আর মাশরাফির মতে, বাংলাদেশ এখন বড় দল হওয়ার পথে।
ধারাবাহিকতা, এশিয়াকাপ হাতে না উঠলেও টুর্নামেন্ট জুড়ে বাংলাদেশের এটাই বড় অর্জন। ব্যাট হাতে ওপেনিং ব্যাটসম্যান তামীমের ২৫৩, সাকিবের ব্যাটে ২৩৭ রানের সঙ্গে ৬ উইকেট, নাসিরের ১৬৫ কিংবা নিজেকে ফিরে পাওয়া মাশরাফি মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো। এসব মিলিয়েই বাংলাদেশ নামের সঙ্গে বিশ্বসেরারা জুড়ে দিয়েছেন একটি শব্দ ‘টিম-স্পিরিট’। একেই অর্জন হিসেবে দেখছেন দেশের সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটাররা।
পেইসার মাশরাফি বিন মর্তুজার মতে, বাংলাদেশ এ ধরনের অবস্থার মধ্যে পরে অভ্যস্থ নয়। তবে সুখের কথা হচ্ছে, আমরা এ রকম অবস্থার মধ্যে পড়তে শুরু করেছি। এবং এভাবেই আমরা নিজেদের তৈরি করে নিতে পারবো। প্রায় একই রকম মত জাতীয় সাবেক ক্রিকেটার এবং নির্বাচক ফারুক আহমেদের, বাংলাদেশের বড় অর্জন হলো ‘একটা দল’ হয়ে খেলতে পারা। বাংলাদেশের যে যোগ্যতা আছে সেটা তারা প্রমান করে দিয়েছে। এখন শুধু সেই ধারাবাহিকতাটুকু ধরে রাখতে হবে।
পরাজয়ের পোষ্টমর্টেম করতে গিয়ে সাবেক এই ক্রিকেটার ও নির্বাচক বলেছেন, ফাইনালের টার্নিং পয়েন্ট দুটি। পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ ওভারে শাহাদাতের করা শেষ ওভার আর সাকিবের আউট। তবে তারপরও বাংলাদেশ যা পেয়েছে তাই অনেক।
তবে সাবেক এই নির্বাচকের মতে, এখন পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বরং নিজেদের সেরা দল হিসেবে গড়ে তোলাটাই জরুরী। ফারুক বলেন, বড় দল হয়ে উঠতে হলে এমন কিছু দেখাতে হয় যা বাংলাদেশ দেখাতে পেরেছে।
আর বিশ্ব ক্রিকেটের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসাকে শক্তি হিসেবে নিয়ে নিজেদের শক্ত দল তৈরিতে ‘ধারাবাহিক’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটাররা।

২.
এশিয়া কাপ দিয়েই ক্রিকেটবিশ্বে বড় শক্তি হয়ে ওঠার আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র দুই রানের জন্য এশিয়া সেরার মুকুট না পেলেও যোগ্যতা প্রশ্নে এই দলটি পেয়েছে ‘একশ তে একশ’! কাপ না জেতার আফসোস থাকলেও ক্রিকেটাররাও মনে করেন, এই টুনর্মামেন্ট অনেক দিয়েছে বাংলাদেশকে। এখন জরুরী এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।
‘ইস্’ ... এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষে কোটি বাংলাদেশির মুখে উচ্চারিত ধ্বনি! মাত্র দুই রানের আক্ষেপ! হতে হতেও পূরণ না হওয়া এক স্বপ্নগল্পের সমাপ্তি হলো কান্নায়। পুরো বাংলাদেশের মতো চোখের জলে ভেসেছেন ক্রিকেটের বীর সেনারাও।
চোখেমুখে হতাশার ছবি স্পষ্ট। তিন সাবেক বিশ্বসেরাদের টপকে এশিয়া সেরা হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়নি ঠিকই তবে, ওই চোখের জলেই লেখা হয়ে গেছে অন্য রকম এক ক্রিকেট কাব্য। যেখানে লেখা হয়েছে, ‘আন্ডারডগ’-এর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসছে আরেকটি নাম, বাংলাদেশ। জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার মতে, আমরা নিজেদের সেরাটা দেখিয়েছি। যদিও জিততে পারি নাই তবে সেটা সম্ভবই হলেও হতে পারতো।
আর সাকিব আল হাসান মনে করেন, বাংলাদেশের এই অর্জনটা ধরে রাখতে প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আগামী ছয় মাস বাংলাদেশের কোন খেলা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার নিজের অবশ্য সমস্যা নেই, ছুটি নেই তবে অন্যদের নিজেদের মতো করে প্র্যাকটিস করে যেতে হবে।
হেরে যাওয়ার কারণ এবং নিজের পারফরমেন্সের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মাশরাফি বলেন, আমি একটা সিঙ্গেলস নিয়ে সাকিবকে দিতে চেয়েছিলাম। তবে সেটা হলো না। দূর্ভাগ্য।
তবে তিনি মনে করেন, ঘরের মাটি আর চীরায়ত ক্রিকেটীয় ধারাবাহিকতার বিবেচনায় ফেভারিট হিসেবে খেলতে নেমেও অল্পতে হার মানা বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মনে করেন, এই টুর্নামেন্ট তাদের দিয়েছে অনেক।
টুর্নামেন্ট জুড়ে ‘একটা দল’ হয়ে খেলা বাংলাদেশ মাঠে থাকবে না দীর্ঘ সময়। ধারাবাহিক হয়ে ওঠা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য তা কতটা সুখের সেটা নিয়েই এখন ভাবনা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের।