টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি
থেকে রাজধানীতে থ্রিজি সংযোগসহ সেট বিক্রি করবে টেলিটক।
টেলিটকের থ্রিজি সেবা জনপ্রিয় করার জন্য বাজারে
প্রচলিত থ্রিজি মোবাইল ফোনসেটের চেয়ে কম দামে তা বিক্রি করা হবে বলে তিনি জানান।
সংযোগসহ সেটের মূল্য কি হবে জানতে চাইলে মুজিবর
বলেন, “সুলভ মূল্যেই এ অফার দেয়া হবে যাবে সাধারণের
নাগালে এ সেবা আসতে পারে। এ প্যাকেজ কিস্তির মাধ্যমে দেয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।”
বাজারে প্রায় এক লাখ থ্রিজি সিম ছাড়া হয়েছে
উল্লেখ করে তিনি জানান, গত ১৪ অক্টোবর থ্রিজি
প্রযুক্তি উদ্বোধনের পর ৩০ হাজারের বেশি সিম বিক্রি হয়েছে।
থ্রিজি প্রযুক্তি চালু হলেও তেমন সাড়া পড়েনি
গ্রাহকদের মধ্যে, একাধিক গ্রাহক জানিয়েছে থ্রিজি ফোনসটের দাম বেশি
থাকায় থ্রিজি সিম কিনতে তারা উৎসাহ পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে মুজিবর বলেন, “থ্রিজি প্রযুক্তি বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা পেতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে হ্যান্ডসেটের
সঙ্গে থ্রিজি সংযোগে জনপ্রিয়তা বাড়বে।”
টেলিটকের জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) হাবিবুর
রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, থ্রিজি প্রযুক্তি
নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ধীরে ধীরে আগ্রহ বাড়ছে, শুরুতে যে পরিমান থ্রিজি সিম বিক্রি হয়েছে সে তুলনায় বর্তমানে সিম বিক্রি আরো
বাড়ছে।
টুজি প্রযুক্তির তুলনায় থ্রিজি প্রযুক্তির
মাধ্যমে উচ্চ গতিতে তথ্য আদান-প্রদান সহজ। কেউ চাইলেই এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কল বা
ভিডিও কনফারেন্স করতে পারবেন।
টেলিটকের থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল ফোনে
বিটিভির পাশাপাশি জিটিভি, আরটিভি, সময় ও মাইটিভি দেখা যাবে বলে টেলিটক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।
রাজধানীতে দেড় হাজার খুচরা বিক্রেতা এবং আটটি
কাস্টমার সেন্টারে থ্রিজি সিম বিক্রি হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার ৪ লাখ গ্রাহক থ্রি জি সুবিধা
পাবেন। চলতি বছরই এই সুবিধা চট্টগ্রামে পাওয়ার কথা রয়েছে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের
গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে নিঃর্শত ক্ষমা চাইতে বলেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় পাকিস্তানের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানী খারকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু
মনি এ আহবান জানালে হিনা বলেন, বিভিন্ন সময় ওই ঘটনার জন্য
দুঃখ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান, এখন পেছনের দিকে না তাকিয়ে
সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে চান তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডি-এইট সম্মেলনের
অনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পান্থ রহমানের রিপোর্ট।
উন্নয়নশীল আট দেশের জোট ডি-এইট সম্মেলনে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রন জানাতে শুকবার সকাল সাড়ে দশটার
দিকে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার। সেখান থেকে সরাসরি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বর্তমান সরকারের আমলে সফরে আসা প্রথম কোনো পাকিস্তানী মন্ত্রীকে মন্ত্রণালয়ে
স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি।
এরপর দুপররাষ্ট্রমন্ত্রীর আধাঘন্টার বৈঠক। দ্বিপাক্ষিক
সম্পর্কের নানা দিকের মধ্যে আলোচনা হয় আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়া,
অবিভক্ত পাকিস্তানের সম্পদের হিস্যা দাবি, একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যাসহ নির্যাতনের জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা
চাওয়ার প্রসঙ্গ।
সার্ফেইস: (মিটিংয়ের ছবি)
পররাষ্ট্র সচিব জানান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গণহত্যার জন্য নানা
সময় পাকিস্তান দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে এ মাসের শেষ সপ্তাহে পাকিস্তানে হতে
যাওয়া হাতে ডি-এইট সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা
করে বিকেলে পাকিস্তানে ফিরে যাবেন হিনা রাব্বানি খার।
১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে
নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইতে বলেছে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান বলেছে, তারা অতীত ভুলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডি-৮ সম্মেলনে যোগ
দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে গতকাল শুক্রবার ঢাকায় আসা পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হিনা রাব্বানি খারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই আহ্বান জানানো হয়। তিনি সংক্ষিপ্ত
সফরে গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রসচিব
মিজারুল কায়েস।
বিমানবন্দর থেকে হিনা খার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
যান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিথিকক্ষে দীপু মনির সঙ্গে
প্রায় আধঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পর পররাষ্ট্রসচিব তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের জানান ।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘হিনা খার মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডি-৮ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার
জন্যই বাংলাদেশে এসেছেন।
কাজেই দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে দীর্ঘ আলাপের কোনো সুযোগ
ছিল না। তবে ’৭১-এর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য
পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া অমীমাংসিত
বিষয়গুলোও উত্থাপন করা হয়েছে।’
ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি উত্থাপনের পর পাকিস্তানের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলেছেন—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের
জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে
দীর্ঘ কথা বলার সুযোগ এখানে ছিল না।
আমরা আমাদের কথাগুলো বলেছি। তিনি আমাদের কথাগুলো
শুনেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দেন বলে জানিয়েছেন। তবে অতীত ভুলে তিনি
সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন।’
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় ডি-৮ সম্মেলনে বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী যাবেন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে সচিব
বলেন, ‘এবারের সম্মেলনে ১৬ বছর পর ডি-৮-এর সনদ হবে। তবে আমাদের
প্রধানমন্ত্রীকে আজই নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। যাবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত এক্ষুনি বলা সম্ভব নয়।’
প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
থেকে বেরিয়ে দুপুরে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ডি-৮ সম্মেলনের
আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন হিনা খার।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ
রেহানা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, আসন্ন ডি-৮ সম্মেলন ছাড়াও শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও
উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,
শেখ হাসিনা ও হিনা খারের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধের
সময় নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনাসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো
সুরাহার প্রসঙ্গ ওঠে।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ: দুপুরে হোটেল রূপসী বাংলায় দীপু মনির দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে
অংশ নেন হিনা খার। সেখান থেকে বেলা পৌনে তিনটায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে
যান। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মেহেদি হাশমি কোরেশি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। খালেদা জিয়ার
রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রায় ২০ মিনিট ছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকেরা
মুখোমুখি হলে হিনা খার বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে এটি
ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ।
এর আগে কখনো আমাদের সাক্ষাৎ হয়নি। তাই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি আনন্দিত।
সাক্ষাতে উপস্থিত থাকা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক
পররাষ্ট্রসচিব শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া ও হিনা খার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।
পাটের ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন॥ লাভবান হবে
বাংলাদেশ-ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার চাষীরা
২০ সেপ্টেম্বর, ঢাকা:
অনেক চড়াই-উৎড়াই পার হয়েছে, তারপরও উদ্ভাবন করা
যাচ্ছিলো না ঠিক কী কারণে পাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। বাংলাদেশ পাট গবেষণা
কেন্দ্র এই নিয়ে চিন্তিত ছিলো যে, বছরে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ
পাট নষ্ট হয় প্রতিবছরে। কিন্তু কেন, কী এর প্রতিকার। এবারে সেই সব প্রশ্নের
উত্তর দিলেন বাংলাদেশেরই এক বিজ্ঞানী, মাকসুদুল আলম। তার নেতৃত্বেই
উন্মচিত হলো পাটের জন্য ক্ষতিকর ছত্রাকের জীবন রহস্য। এখন সেই ছত্রাক বিনষ্ট
করার কাজটাও খুব সহজ হলো।
এক সময় পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনও অনেকের কাছে
অধরা ছিলো কিন্তু বাংলাদেশের এই বিজ্ঞানীই কিছুদিন আগে পাটের জীনন রহস্য (জিনোম) খুঁজে
পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের এই জিন বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাটসহ
বিশ্বের ৫০০টি উদ্ভিদের অন্যতম শত্রু ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছেন। তার মানেটা এমন,
ছত্রাক কীভাবে ফসলের জৈব উপাদান নষ্ট করে, উৎপাদন কমিয়ে দেয়, তা খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
মাকসুদুল বলেছেন; “ম্যাক্রোফমিনা ফাসিওলিনা নামের ওই ছত্রাকের আক্রমণে শুধু পাটই নয় বরং
দুনিয়াজুড়ে ৫০০টি উদ্ভিদের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ছত্রাকের আক্রমণে শুধু পাটের উৎপাদনই ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও এতদিনে এই ছত্রাকের
কার্যপক্রিয়া জানা যাচ্ছিলো না। কিন্তু আমরা পেরেছি।”
তিনি বলেন, এখন কাজ বাকি অল্পই। ছত্রাকের আক্রমণ সহ্য করে টিকে থাকতে পারে এমন জাত উদ্ভাবন করে তা কৃষকের হাতে
পৌঁছে দেওয়া, ব্যস।
বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাটবিষয়ক মৌলিক ও
ফলিত গবেষণা প্রকল্পের আওতায় মাত্র এক বছরের মাথায় দেশের বিজ্ঞানীরা এই সফলতা
পেলেন। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে এই প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত একটি গবেষণা
কেন্দ্রে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এই কাজ করেছেন।
এই সফলতায় বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন খোদ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।তিনি বুধবার সফলতার খবরটি
দেয় সরাসরি প্রচারিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনেই। আর তাছাড়া একই দিন এই
সুখবরটি প্রকাশিত হয় বিশ্বের বিজ্ঞানবিষয়ক অন্যতম বিএমসি জেনোমিকসে।
মাকসুদুল আলম বলেন, এত অল্প সুযোগ-সুবিধা নিয়েও তার শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম করায় এমন সফল হওয়া
গেছে। তিনি গবেষণায় আরও টাকা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান।
পাট ও ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করার এই সাফল্য
যেন বাংলাদেশ মালিকানা হিসেবে পায় (অর্থাৎ পেটেন্ট) তা নিশ্চিত তা নিয়েও অনেক কাজ করতে হচ্ছে তাদের। এরই মধ্যে
পেটেন্টের আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাকসুদুল জানান, স্বল্প পানিতে পাট ধোঁয়া ও জাগ দেওয়া বা পচানোর মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করার
জন্যও তাদের গবেষণা চলছে। তবে এর জন্য কৃষকদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান এই বিজ্ঞানী।
মাকসুদুল বলেন, “এই ছত্রাকটি ধান, গম, ভুট্টা, সয়াবিন, তুলা, যবের মতো প্রধান
খাদ্য উৎপাদনকারী ফসলগুলোও নষ্ট
করে।”
উল্লেখ্য, বিশ্বের তিনটি ফসল, চারটি জীবাণুসহ মোট ১৯টি
জীবের জীবনরহস্য উন্মোচনে গবেষক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের এই কৃতী বিজ্ঞানী। বাংলাদেশ ছাড়াও
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেঁপে, মালয়েশিয়ার জন্য রাবার ও
বাংলাদেশের পক্ষে পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করে এরই মধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছেন
বাংলাদেশের মাকসুদুল।
মাকসুদুল আলম বলেন, “একসময় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার একটা বড় অংশই দিতো পাট। পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। অথচ আমাদের এই পাট
হারিয়ে গেলো। আমাদের পাট এবং পাটের প্রধান শত্রু ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচনের মধ্য দিয়ে
আমরা পুনরায় আমাদের রাজত্ব উদ্ধার করতে পারবো। আমাদের কৃষকদের সোনালি দিন
ফেরত দিতে পারবো।”
তিনি বলেন, “এই কাজটি শুধু বাংলাদেশই নয় বরং পাশ্ববর্তী দেশগুলো যেখানে পাট উৎপান হয় যেমন ভারত, তারাও সুফল পাবে। কেননা, এসব অঞ্চলে পাটের শত্রু হিসেবে পরিচিত এই ছত্রাক।”
জানা গেছে, ২০ বছর আগে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাই সাদা আঁশের পাটের একটি লাইন (ঠিক জীবন নয়
বরং জীবনের একটা অংশ) উদ্ভাবন করেছিলেন। সেই পাট সাদা আঁশযুক্ত এবং তা ব্যবহার করতে
প্রক্রিয়াজাতকরণের দরকার হয় না; সরাসরি কাপড় তৈরিতে
ব্যবহার করা যায়।
মাকসুদুল আলম কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া
সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা এত দিন জেনোমবিষয়ক যাবতীয় তথ্য উন্নত বিশ্বের
তথ্যভান্ডার থেকে শুধু সংগ্রহই করেছে। কিন্তু এখন সে তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করতে আমাদের
অংশগ্রহণ থাকলো। বিশ্ব দেখবে আমরা শুধু তথ্য নিই না, দিতেও পারি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আপিল
বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রত্যাখ্যানকরে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, এই রায়ের ভিত্তিতে আয়োজিত কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবেন না।
বৃহস্পতিবার গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি
বলেন, “আমরা ঘোষণা করছি, সাবেক প্রধান বিচারপতির ওই রায় নৈতিকতা বিরোধী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। জনগণ কখনোই তা
গ্রহন করবে না।
গত বছরের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
বাতিল করে আপিল বিভাগের দেয়া ৩৪২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশ
করা হয়।
ওই রায়কে ভিত্তি ধরেই গত বছরের ৩০ জুন সংবিধানের
পঞ্চদশ সংশোধনী আনে মহাজোট সরকার, যাতে নির্বাচনকালীন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।
এ বিষয়ে দলের অবস্থান জানাতেই বিকালে সংবাদ
সম্মেলন ডাকেন বিরোধী দলীয় নেতা।
ওই রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল
হকের স্বাক্ষর করার বৈধ্যতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়া বলেন, “নিদর্লীয় সরকারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান
বিচারপতির উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়ের কারণে চলমান আন্দোলনকে কেউ দুর্বল করতে পারবে না।”
একইসঙ্গে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করেন- “নির্দলীয় সরকার ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। জনগণ তা প্রতিহত
করবে।”
নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের জন্য সরকারকে
সংসদে বিল তোলার আহবান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “সরকার যদি সংবিধান সংশোধনের বিল পাস না করে, তাহলে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।”
অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা
ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গনি, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সহসভাপতি টি এইচ খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা
খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী,
সাংসদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, বিরোধী দলীয় নেতার প্রেস
সচিব মারুফ কামাল খান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের ভূখন্ডে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও
ব্যবসায়ী ঢুকে পরা নিত্যদিনের ঘটনা।
আর তেমন ঘটনায় বাংলাদেশি আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটে হরহামেশাই। তবে এবারে
বাংলাদেশের ভূখন্ডে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে প্রথমে গ্রেফতার এবং পরে হাজত
খেটেছে এক ভারতীয় নাগরিক।
ভানু কোচ (২৮) নামের ওই ভারতীয় অবৈধভাবে
বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে প্রায় ৯ মাস কারাবরণ করেছেন। আর ২০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুপুরে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, বিজিবি এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, বিএসএফ পতাকা বৈঠক করে ভানু কোচকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও
স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় কতৃপক্ষের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ভানু কোচ, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুড়া জেলার বারেঙ্গাপাড়া
এলাকার চান্দুভুই গ্রামের সুদ্রা কোচের ছেলে। তিনি গত ১০ জানুয়ারি
নালিতাবাড়ী সীমান্তের সমেশ্চুড়া এলাকা দিয়ে কোন রকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বাংলাদেশে
প্রবেশ করতে যায়। সে সময় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে।
অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ওই সময় তার বিরুদ্ধে
মামলাও হয় এবং সেই মামলার কারণেই শেরপুর কারাগারে ভানু ৯ মাসের মতো কারাভোগ করেন। আজ তিনি মুক্তি পান।
বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের মধ্যে
তাকে ফেরত পাঠানো ও নেওয়া নিয়ে পতাকা বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবির ২৭ ডি’ কোম্পানীর হাতিপাগার ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার আব্দুল
কাদের ও বিএসএফ এর ১৩২ বিএসএফ ডি’ কোম্পানীর ইন্সপেক্টর দিপক মেমোরিয়া দুই দেশের পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। তবে বিষয়টি নিয়ে
স্থানীয় গণমাধ্যমের কোন প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।‘‘
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন পররাষ্ট্র
সচিব পর্যায়ের বৈঠকেই টিকফা চুক্তির ভবিষ্যত নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন
পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের সংগঠনের
আয়োজনে দুই দিনের ‘মিনাবাজার’ উদ্বোধনের পর সচিব বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের
সময়ই পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ওই বৈঠক হবে। আর তখনই টিকফা চুক্তিসহ দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো
আলোচিত হবে। তবে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক সম্পর্কে
জানতে চাইলে, তেমন কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। জানিয়েছেন, ওই বৈঠকটি নিতান্তই কারিগরি।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ঢাকায় আসছেন উল্লেখ করে মিজারুল
কায়েস বলেন, ঝুলে থাকা বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানই আলোচনার উদ্দেশ।