পৃষ্ঠাসমূহ

মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১২

বাংলাদেশ ও নেপালের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক

উপ-আঞ্চলিক জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে ঐক্যমত হয়েছে বাংলাদেশ ও নেপাল। ভারতকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুতই ত্রিপক্ষীয় একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস। নেপালের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে দুই পররাষ্ট্র সচিব এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের হলেও; ছিলো না আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম। এবারে ‘পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়’-এ নিয়মিত বৈঠকের ঘোষণা দিয়ে সেই প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলো বাংলাদেশ আর নেপাল। দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব নিজেদের মধ্যে বৈঠকে সই করলেন কূটনৈতিক সম্পর্কের এই সমঝোতা স্মারকে। পূর্ণ হলো আনুষ্ঠানিকতা। এখন এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আলোচনা হবে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস বলেছেন, “দুই দেশের মধ্যে এখন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলো। যেই প্ল্যাটফর্মের আওতায় বাংলাদেশ ও নেপাল এর পররাষ্ট্র সচিবরা নিয়মিত বৈঠক করবেন এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।”

সচিব পর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন, যোগাযোগ ছাড়াও আলোচিত হয়েছে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ইস্যুটি। সচিবরা জানিয়েছেন; জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় বৈঠকে হবে ওয়াকিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক।

নেপালের পররাষ্ট্র সচিব দূর্গা প্রসাব ভট্টরাই জানিয়েছেন; নেপাল এই বৈঠকে বাংলাদেশের কাছে ট্রানজিট বা যাতায়াত সেবা চেয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের করিডর ব্যবহার করা এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করার আগ্রহ দেখিয়েছে।

মিজারুল কায়েস বলেন; বাংলাদেশও তাদের জন্য ট্রানজিট দিতে চায়। তাছাড়া মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বাড়াতে নেপালকে সুযোগ দিতে চায়।

“ভারতকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল একটি ত্রিপক্ষীয় ওয়ার্কিং কমিটি করবে। সেই কমিটি জলবিদ্যুৎ নিয়ে গবেষণা করে সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানাবে। তারপরই বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু হবে। তবে আপাতত এখনও কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে বলে ধরে নেওয়া যায়।”

বৈঠকে নেপালের পক্ষ থেকে আবারও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবাহারের আগ্রহ দেখানো হয়েছে। তাছাড়া দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে; ট্রানজিট এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই সচিব।
পান্থ রহমান, ঢাকা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাংলাদেশ ইতিবাচক


৩১ জুলাই; ঢাকা:
ধর্ম, ধর্মে বিশ্বাস, ধর্ম পালনে স্বাধীনতা, শ্রদ্ধা অন্তর্ভুক্তি এবং সহনশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে সরকার যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে তারও প্রশংসা করেছে তারা
ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আন্তর্জাতিক রেটিং তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রদেশটি এ বিষয়ে তাদের ২০১১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে গতকাল মঙ্গলবারসেই প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে; ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তি ধরে রাখতে বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে

বাংলাদেশ সরকার তার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য নিয়োগ দিয়ে এবং তাদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে

আগের বছর কোন ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের কোন সংবাদ আছে কিনা এমন প্রশ্নের নিজেরাই উত্তর খোঁজা হয়েছে ওই প্রতিবেদনটিতে সেখানে বলা হয়েছে; ‘এমন কোন সংবাদ পাওয়া যায়নিকোথাও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে কোন বিবাদ পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে

জাতীয় সংসদে সম্প্রতি খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্ট (সংশোধন) আইন ২০১১ পাস করে সেখানে তহবিলের পরিমাণ এক কোটি থেকে চার কোটি টাকা করেছে বলেও প্রশংসা করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনেপ্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে; বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে তহবিলের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছেসেখানে তিন কোটি থেকে পাঁচ কোটি  করা হয়েছে

ফতোয়া নিষিদ্ধ করে সুপ্রিম কোর্টে রুল জারী, নারী অধিকার রক্ষায় উত্তরাধিকার আইনে সমতা আনা এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে শান্তি স্থাপনে সরকারের উদ্যোগগুলো ইতিবাচক বলে তার ভূয়ষী প্রশংসা করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে

সব কিছুর পরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিবেদনে আহমেদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ ঠেকানোয় আরও উদ্যোগী হওয়া উচিতবলা হয়; “ওই দেশটির ধর্ম নিরপেক্ষ সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় নীতি র্ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষা করে যা স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক উপাদান

উল্লেখ করা যেতে পারে; ধর্মীয় এই বিষয়গুলো নিয়ে যে সকল ফোরামে আলোচনা হয় বাংলাদেশ সরকার সেই ফোরামগুলোতে সই করেছেযেমন; ১৯৪৮ সালের ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অন হিউম্যান রাইটসবা মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা এবং ইন্টারন্যাশনাল কনভেন্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইট্সবা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বাংলাদেশ সই করেছে
পান্থ রহমান, ঢাকা
’ ‘‘

কুমিল্লায় আরও গ্যাসের সন্ধান

৩১ জুলাই; ঢাকা:
মাত্র সপ্তাহ দুয়েকের ব্যবধানে আরও নতুন গ্যাসক্ষেত্রে সন্ধান মিলিছে বাংলাদেশের কুমিল্লায়। আগেরবার জেলার মুরাদনগর থানার শ্রীকাইলে গ্যাস পাওয়া গিয়েছিলো; এবারও ওই একই এলাকায় মিললো দ্বিতীয় ক্ষেত্র। দুই নম্বর অনুসন্ধান কূপে পাওয়া গেলো এই গ্যাসের স্তরটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড কিংবা বাপেক্স।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক সাংবাদিকদের বলেছেন, গত ১৩ জুলাই দুই নম্বর কূপের যে স্তরটি গ্যাসপূণৃ ছিলো এবারে ওপরের অংশে পাওয়া গেছে নতুন ক্ষেত্র। বিষয়টি সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ড্রিলিং স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। যদিও গ্যাসের মজুদ নিয়ে এখনও নিশ্চিত করার মতো কিছু বলতে পারেননি মর্তুজা ফারুক।

নতুন গ্যাস ক্ষেত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের কিংবা পেট্রোবাংলার  চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বলেছেন, নিন্মস্তরের গ্যাসজোনটি ২৬ মিটার পুরু ছিলো তবে এবারে পাওয়া নতুন জোনের পুরুত্ব ৪৮ মিটার। তিনি জানিয়েছেন; “নতুন ক্ষেত্রে গ্যাসের চাপ ৭৬০ পিএসআই কিংবা প্রেসার পার স্কয়ার ইঞ্চি মাপা হয়েছে। ফলে দৈনিক ১৭ মিলিয়ন ঘণফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে বলে মনে হচ্ছে।” তিনি জানান; ‘শ্রীকাইল তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন’ প্রকল্প সম্পন্ন করতে ব্যয় ধরা হচ্ছে ৮১ কোটি ১২ লাখ টাকা।’

বাণিজ্যিক উত্তোলন শুরু হলে দেশে চালু কূপের সংখ্যা দাড়াবে ৮২টিতে। আর সেই গ্যাস শিল্প, সার ও বিদ্যুৎ কারখানাগুলোতে সর্বরাহের ঘোষণা দিয়েছে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক দুই হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও উৎপাদিত হচ্ছে দুই হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। এছাড়াও বাংলাদেশে এমুহুর্তে গ্যাসের মজুদ ধারণা করা হয়; ২০ দশমিক ৬২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এ মজুদ থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। তাতে গ্যাসের মজুদ আর ৯ দশমিক ৮৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট আছে বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা।

২০০৪ সালেও শ্রীকাইলে গ্যাসের আবিস্কারের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি। তবে ওই স্থানের পাশেই দ্বিতীয় স্থানে ১৫০ লাইন কিলোমিটার দ্বি-মাত্রিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালিয়ে যায় বাপেক্স। ধারণ ছিলো ৫০০ বিলিয়ন ঘটফুট গ্যাস থাকতে পারে।

উল্লেখ্য; পেট্রোবাংলার সহযোগী সংস্থা বাপেক্স তিনটি ক্ষেত্রে গ্যাস পেয়েছে। ১৯৯৫ সালে ভোলার শাহবাজপুরে প্রথম, ১৯৯৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সালদায় দ্বিতীয়, গত বছরের ২৮ অগাস্টে সুন্দলপুরে তৃতীয় ক্ষেত্রে গ্যাস পায় প্রতিষ্ঠানটি।
পান্থ রহমান, ঢাকা

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১২

লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধন

হঠাতই অনেক পেছনে নিয়ে গেলো লন্ডন অলিম্পিক। ইতিহাস থেকে দেখানো ছবি কিংবা আলোর ঝলকানি কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির চমক-ছিলো সবই। প্রায় চার ঘণ্টার চোখ ধাঁধানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার রাতে লন্ডনে শুরু হলো মর্ত্যের বুকে সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞ অলিম্পিক গেমসের ত্রিশতম আসর

বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে দ্বিতীয়বারের মতো অলিম্পিকের উদ্বোধন ঘোষণা করেন রানী এলিজাবেথএর আগে ১৯৭৬ সালে কানাডার রাণী হিসেবে মন্ট্রিয়েল অলিম্পিকের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রানীর স্বামী ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপ এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি জ্যাক রগ উপস্থিত ছিলেন শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রগ, আর স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির সভাপতি সেবাস্টিয়ান কো

রাণীর ঘোষণার পরপরই আতশবাজির আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে অলিম্পিক স্টেডিয়ামের আকাশ অলিম্পিক পতাকা ওড়ানোর সময় উপস্থিত ছিলেন বক্সিং গ্রেট মোহাম্মদ আলী

অলিম্পিক স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর আগে ৮ হাজার বহনকারীর হাত ঘুরে ৮ হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে মশাল স্পিড বোটে করে তরুণ ফুটবলার জেন বেইলি মশাল নিয়ে আসেন স্টেডিয়ামে ঐ বোটের চালক ছিলেন ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহামবেইলির কাছ থেকে মশাল নেন রোয়িংয়ে ৫টি অলিম্পিক সোনা জয়ী স্যার স্টিভ রেডগ্রেভ

এ সময় অ্যাথলেটদের পক্ষে শপথ পাঠ করেন তায়কোয়ান্দো তারকা সারাহ স্টিভেনসনরেফারিদের শপথ পাঠ করেন মাইক বাসি ও কোচদের শপথ পাঠ করেন এরিক ফেরেল এমবিই

স্যার রেডগ্রেভ মশাল তুলে দেন সাত তরুণ অ্যাথলেটের একটি দলের হাতেতারা পুরো মাঠ প্রদক্ষিণ করে প্রজ্বালন করেন স্টেডিয়ামের মূল মশাল

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

বিশ্বের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে মর্যাদার ক্রীড়া আসর অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শৈল্পিক দক্ষতায় তুলে আনা হয়েছে যুক্তরাজ্যের ইতিহাস২৭ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে এক হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীর অংশ গ্রহণে দেখানো হয়েছে যুক্তরাজ্যের অবদান

এর আগে স্থানীয় সময় রাত আটটা বারো মিনিটে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও নিখুঁতভাবে টিউনিংকরা একটি ঘন্টার ধ্বনি বাজিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানঘন্টা বাজান ট্যুর ডি ফ্রান্স জয়ী ব্র্যাডলি উইগিন্স

অস্কার বিজয়ী সুরকার ড্যানি বয়েল বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে অনন্য দক্ষতায় ব্যবহার করেছেন আধুনিক প্রযুক্তিতার পরিচালনায় বিস্ময়ের দ্বীপ অনুষ্ঠানের শুরুতে তুলে ধরা হয়েছে যুক্তরাজ্যের গ্রামীণ সবুজ ও সমাহিত পটভূমিখামারের আসল গবাদি পশুই ব্যবহার করেন বয়েলদেখানো হয় গ্রামীণ ক্রিকেট ম্যাচও

জেরুসালেম, ড্যানি বয়, ফ্লাওয়ার অব স্কটল্যান্ড ও ব্রেড অব হেভেন- এই চার গানের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের চার দেশকে তুলে ধরা হয়েছেউইলিয়াম শেক্সপিয়ারের অমর নাটক টেমপেস্টের ছোট্ট অংশ এ সময় ব্যবহার করেন বয়েলনিপুণ দক্ষতায় দেখানো হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব

এরপর বড় পর্দায় দেখানো হয় সিক্রেট এজেন্ট জেমস বন্ডের একটি শর্ট ফিল্মএর শেষ পর্যায়ে একটি হেলিকপ্টারে করে ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথকে নিয়ে অলিম্পিক স্টেডিয়ামে পৌঁছান বর্তমান বন্ড ড্যানিয়েল ক্রেইগরাণী স্টেডিয়ামে আসার পরপরই বেজে ওঠে ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীত

পরের পর্বটি শিশুদেরজেকে রাওলিংয়ের জনপ্রিয় চরিত্র জাদুকর হ্যারি পটার ও তার প্রধান শত্রলর্ড ভলডারমট আরেকবার মুখোমুখি হন অলিম্পিকের উদ্বোধনী আসরেবরাবরের মতো হেরেই বিদায় নিতে হয় ভলডারমটকেছিলেন ছোট-বড় সবার প্রিয় চরিত্র মিস্টার বিন খ্যাত রোয়ান অ্যাটকিনসন

যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতি ও তার বিবর্তনকে তুলে ধরার সম্ভাব্য চেষ্টাই করেছেন বয়েলগ্রামীণ সংস্কৃতি তুলে ধরার পর ব্যস্ত নগর জীবনের অস্থির তারুণ্য ও হালের পপ-সংস্কৃতিতেও সামনে নিয়ে আসেন তিনিএ সময় জনপ্রিয় গান আর চলচ্চিত্রের ফুটেজ ব্যবহার করা হয়শিল্পের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের গ্ল্যামার জগকেও সমানভাবে তুলে ধরা হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে

সর্বক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সফল ব্যক্তিদের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন বয়েলঅলিম্পিক মন্ত্রী জেরেমি হান্ট একেই বলেছেন, যুক্তরাজ্যের বৃহ একক বিজ্ঞাপনওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা ডব্লিউডব্লিউডব্লিউর জনক স্যার টিমোথি বার্নার্স লিও ছিলেন মঞ্চে

শুধু হালকা বিষয় দেখানোই নয়, জীবন-মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়ে মানুষের সংগ্রামকে সামনে নিয়ে এসেছেন তিনিকোরিওগ্রাফার আকরাম খানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের একটি দলের এই পরিবেশনার পরপরই শুরু হয় দলগুলোর মার্চপাস্ট

ঐতিহ্য মেনেই সবার আগে মার্চপাস্টে অংশ নেয় গ্রিস, এরপর বর্ণক্রম অনুসারে আসে অন্যরাএর আগে ১৮৯৬ সালের এথেন্স অলিম্পিকের মশাল প্রজ্বালনের দৃশ্য দেখিয়ে বর্তমানে ফেরানো হয় দর্শকদের৭০ দিনের মশাল র্যালির একটি ভিডিও চিত্রও দেখানো হয় এ সময়

বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগরবাংলাদেশের অন্য চার প্রতিযোগী হলেন শারমিন আক্তার রত্না, ইমদাদুল হক মিলন, মোহন খান ও সাইক সিজারএ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তাদের অভিনন্দন জানান

১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে শনিবার লড়বেন রত্নাএর আগে শুক্রবার আর্চারির বাছাই পর্বে অংশ নিয়ে ৬১তম হয়েছেন মিলন

সবার শেষে মার্চপাস্টে আসে স্বাগতিক যুক্তরাজ্যএ সময় প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, প্রিন্স উইলিয়াম ও তার স্ত্রী কেট মিডলটন এবং দর্শকরা তাদের অভিনন্দন জানান

এটি লন্ডনে তৃতীয় অলিম্পিকএর আগে ১৯০৮ ও ১৯৪৮ সালে অলিম্পিক আয়োজন করেছিল ইংল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের রাজধানী

স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১২ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ১২ ঘন্টা আগে ৩ মিনিটে ৪০ বার ঘণ্টাধ্বনির মাধ্যমে বিগ বেন ঘোষণা করে অলিম্পিকের আগমনী বার্তা৬০ বছর পর প্রতি ঘন্টায় ঘণ্টা বাজানোর ব্যতিক্রম করলো বিগ বেনএর আগে ১৯৫২ সালের ১৫ ফেব্রয়ারি রাজা ষষ্ঠ জর্জের মৃত্যুর পর সর্বশেষ নির্ধারিত সময়ের বাইরে বেজেছিল বিগ বেনশুধু লন্ডনের বিগ বেনই নয়, যুক্তরাজ্যের সব ঘণ্টাই বেজে ওঠে এক সুরে

নব নির্মিত অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বসে ৮০ হাজার ও টেলিভিশন পর্দায় ১ বিলিয়ন দর্শক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন
১৪ বিলিয়ন পাউন্ডের এই অলিম্পিকে ২৬টি খেলায় ৩০২টি ইভেন্টে ২০৪টি দেশের ১৪ হাজার সাতশ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন
২ অগাস্ট সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরেরশুরু হবে ২০১৬ রিও ডি জেনিরো অলিম্পিকের জন্য প্রতীক্ষা
সংবাদ: সংগ্রহ

ট্যাংকারডুবি: তেল নিঃসরণ নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেমের মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া ট্যাংকার তেকে তেল বের হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে; ৭ লাখ লিটার পেট্রোল আর ডিজেল নিয়ে তেল বিপণনকারী সংস্থা যমুনার এই ট্যাংকারটি দক্ষিণাঞ্চলের ডিপো,  বরিশালে যাচ্ছিলো। তবে বুধবার রাতের বেলায় কালিগঞ্জ এলাকায় ওই ট্যাংকারটি দুর্ঘটনায় পরে। ট্যাংকারের নাম মেহেরজান। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে; ফজলুল হক-৩ নামের এক কার্গোর সঙ্গে ধাক্কায় ট্যাংকারটি মাঝনদীতে ডুবে যায় এবং ডুবে থাকা ট্যাংকার থেকে যে তেল নিসৃত হচ্ছে। বরিশালের জেলেরা জানিয়েছেন; ডুবে যাওয়া মেহেরজান ট্যাংকার থেকে পরদিন থেকেই তেল বের হতে দেখা যাচ্ছে।

যমুনার বরিশাল ডিপোর কর্মকর্তারা মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি রিয়াজ হোসেনকে জানিয়েছেন, ট্যাংকারের ইঞ্জিন বা বাতাস বের হওয়ার পাইপ দিয়ে তেল নিসৃত হয়ে থাকতে পারে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন অবশ্য আশ্বস্থ করেছে এরই মদ্যে একটি জাহাজ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাংকারের অবস্থান চিহ্নিত করেছে। দ্রুতই উদ্ধার কাজ শুরু হবে। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকী টেলিফোনে জানান; ট্যাংকার না তুলে পানির নিচ থেকে তেল সরিয়ে নেওয়া সম্ভভ হবে না। তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বেষ্টনি দেওয়ার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, মেহেরজান ট্যাংকারে জ্বালানি ৬১০ টন জ্বালানী তেল আছে। অথচ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শক্তির উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা-এর ক্ষমতা মাত্র ৬০ টন। ফরে অন্য কোন উপায়ে তেল ছড়িয়ে যাওয়া ঠেকানো বা তেল তুলে ফেলার প্রতি গুরুত্বারোপ করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেক্ষেত্রে অনেকে পাইপের মাধ্যমে তেল উত্তোলনের বিষয়টি ভেবে দেখার কথা বলেছেন।
তবে দূষণ দ্রুত যেন ছড়িয়ে না পরে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেছেন, তেলের ক্ষতিপূরণ হিসাবে ট্যাংকার মালিকের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী আদায় করা হবে।
উল্লেখ্য; ট্যাংকারেরকর্মী নিজাম উদ্দিন (৩৮) এখনও নিখোঁজ আছেন।
পান্থ রহমান, ঢাকা, বাংলাদেশ
#

শুক্রবার, ২৭ জুলাই, ২০১২

নেপালের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় নিয়ে আলোচনা

২৬ জুলাই, ঢাকা:
বিদেশি মুদ্রার মজুদ ঠিক রাখা এবং চাপ কমাতেই সরাসরি টাকা ও রুপির বিনিময় ব্যবস্থা চালুর আলোচনা হচ্ছে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে। খুব দ্রুতই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন; দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের সংগঠন সার্ক-এর আওতায় চেষ্টা চলছে একটি আঞ্চলিক মুদ্রা বিনিময় পদ্ধতি খুঁজে বের করার। সেই বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে। তবে এর আগেই ঢাকা ও কাঠমান্ডু দ্বিপক্ষীয়ভাবে নিজেদের মধ্যে মুদ্রা বিনিময়ের কাজটি শুরু করবে।”

বিষয়টি আজ শনিবার নেপালে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে উঠতে পারে বলে জানান তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেবেন বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন; তিনি নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। উদাহরণ হিসেবে ওই কর্মকর্তা জানান; ভারতের রুপি নেপালের যে কোন জায়গায় চলে এবং সমমান নিয়েই চলে। কেউ ভারতীয় রুপি নিয়ে নেপালে গেলে সেখানে হোটেলে থাকতেও ওই রুপি দিয়েই কাজ চালানো যায়। বাংলাদেশ তেমনই একটি চুক্তি করতে চায় যেখানে নেপাল গেলে বাংলাদেশের টাকা দিয়ে কাজ চালানো যাবে। এতে করে বাণিজ্য ঘাটতিও কমবে বলে জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সূত্র জানিয়েছে; প্রতি বছর প্রায় হাজার ত্রিশেক বাংলাদেশি পর্যটক নেপালে বেড়াতে যান; সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করেন। এছাড়াও ২০১০-২০১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ, নেপালে ১৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। নেপাল থেকে আমদানি করেছে ৫০ লাখ ডলারের পণ্য। ফলে সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ নেপালের সঙ্গে অর্থ বিনিময়ের চুক্তিতে গেলে লাভবান হবে বলেই মনে করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ওই কর্মকর্তা।

উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ছাড়াও খাদ্যপণ্য, তৈরি পোশাক, টিস্যু, ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য, ওষুধ ইত্যাদি পণ্যের ওপর শুল্ক হার পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনার চিন্তাও চলছে বলে জানা গেছে বাণিজ্যমন্ত্রনালয় সূত্রে। কাঠমান্ডু শাকসবজি ও ফলমূলের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা চায়। আর তার বিনিময়ে নেপাল কৃষিপণ্য, মাছ ও অন্যান্য পণ্যে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ভুটানকে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা দিয়েছে আর সেই সুবিধা নিয়ে অনেক নেপালি পণ্য থিম্পু হয়ে ঢাকায় ঢুকছে।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের ওই সূত্র জানিয়েছে; ভারত হয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে সরাসরি বাস সার্ভিস চালুর কথাও চিন্তা করছে দুই দেশ। বাংলাদেশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এরই মধ্রে কাঠমান্ডু বাস সার্ভিস চালুর জন্য একটি চুক্তিরও খসড়া করা হয়েছে এবং তা নেপালের সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি জানান, “দ্রুতই চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে।”

এর বাইরে কাঠমান্ডু থেকে ভারত হয়ে জলবিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে বাংলাদেশ নেপালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও উপ-আঞ্চলিকভাবে কাজ করছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক আয়োজনের কথাও ঠিক হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই নেপালের পররাষ্ট্র সচিব দূর্গা প্রসাদ ভট্টরাই ঢাকায় এসে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করবেন।
পান্থ রহমান। ঢাকা, বাংলাদেশ।

পত্রিকা-সাময়ীকিতে হুমায়ূন

হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও হুমায়ূন আছেন সাবর মাঝে। এমনকি জাতীয় দৈনিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়েই থাকছেন হুমায়ূন। শুক্রবারের সাহিত্য সাময়িকীর প্রায় প্রতিটিতেই হুমায়ূন আছেন ‘প্রধান খবর’ হয়ে। হুমায়ূনকে নিয়ে লেখা কিংবা হুমায়ূনের লেখাগুলো সম্পর্কেই আজকের প্রতিবেদন।

‘নন্দিত নরক’ ছেড়ে স্বর্গের পথে বরেণ্য কথা সাতিহ্যিক হুমায়ূন আহমেদ। ধারেকাছে নেই; তবুও যেন খুন কাছেই আছেন হুমায়ূন। আছেন আত্মায়, মন-মননে। হুমায়ূন যেন আকড়ে ধরে আছেন বাঙালীর সত্ত্বা। জাতীয় দৈনিকের সাপ্তাহিক সাময়িকীগুলো যেন তারই প্রমান। এ সপ্তাহের সাহিত্য আয়োজন তাই শুধুই হুমায়ূনের নামে। হুমায়ূনের জন্যেই লেখা হয়েছে ‘মৃত্যু হোক লয়’ ... কারও চোখে ‘হুমায়ূন বৃষ্টি ও জোছনার এপিটাফ’ ... কেউ বলেছেন তিনি ‘আমাদের জীবনের ঘনিষ্ট রূপকার’। কারও কাছে হুমায়ূন ‘সাহিত্যের জাদুকর’ ... কারও জন্যে ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’ অথবা ‘সোনা ফলানো অচিন জাদুকর’। যে যেভাবেই স্মৃতিচারণ করুক প্রায় সবক্ষেত্রেই আছে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস-গল্প-কবিতা-গান কিংবা লেখকের তৈরি করে যাওয়া চরিত্রগুলো।
হুমায়ূনের ডাকনাম ‘কাজল’ নামে হুমায়ূনের মা’য়ের লেখা মানুষকে যেমন আবেগী করেছে তেমনি কোন কোন পত্রিকা হুমায়ূনকে মনে করিয়ে দিয়েছে; তারই নিজের জবানীতে। ‘পাঠকের নিজস্ব হুমায়ূন’ সাক্ষাৎকারে দিয়েছেন ‘কিছু আলৌকিক ঘটনার বয়ান’। ‘মৃদু মানুষের দ্রষ্টা’ হুমায়ূনের গল্পের পুনঃমুদ্রনও হয়েছে।
‘জনপ্রিয়তা কি শিল্পের শত্রু?’ সাময়িকীর স্মরণপাতায় তোলা প্রশ্নের জবাব না মিললেও ‘উড়ে যাওয়া এই একলা পাখি’ হুমায়ূনের গল্প-উপন্যাসজুড়ে থাকা চরিত্রগুলোকে রোমন্থন করেছেন লেখকরা। মনে করিয়ে দিয়েছেন হিমু, পরী, নিলু কিংবা রাবেয়াদের।
সাক্ষাৎকারে হুমায়ূনের জবানীতে আছে ‘যখন সময় হবে, চলে যাবো’ ... প্রশ্ন হলো; সময় হয়েছিলো কী? নাকি অভিমানে, সময়ের আগেই চলে গেলেন আপনি, প্রিয় লেখক!
পান্থ রহমান