মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, পদ্মা সেতুর অর্থায়নের ব্যাপারে
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার সন্তোষজনক সমাধানে আসতে না পারায় তিনি নিরাশ। তবে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংকের হাত গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ড.
মুহাম্মদ ইউনূসের কোনো হাত নেই। এটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের দ্বিপক্ষীয়
বিষয়।
আজ বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বন বিভাগের একটি প্রকল্প
নিয়ে অভিজ্ঞতা-বিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। মধুপুর গড় এলাকার দোখলায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বিষয়ে এ দেশের সব রাজনৈতিক দলের
সংলাপে বসা দরকার। সংলাপে বসে আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতায় আসা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ
ব্যক্ত করেন।
বন বিভাগের এই প্রকল্পের নাম ‘রিভিজেটেশন অব মধুপুর ফরেস্ট
থ্রু রিহেবিলেশন ফরেস্ট ডিপেন্ডেন্ট লোকাল অ্যান্ড এথনিক কমিউনিটিস প্রজেক্ট’। বন বিভাগের এই প্রকল্পের কারণে বনের ওপর চাপ কমেছে
বলে মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে এ বনে গাছ কাটা
বন্ধ রয়েছে। বন মামলাও হয়নি। সরকার মধুপুর বনকে শুধু
বাঁচানোর কথাই বলছে না, বরং বনাঞ্চলে বসবাসরত ৪০-৫০ হাজার বনবাসীর জন্য কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অভিজ্ঞতা-বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক
এম বজলুল করিম চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মধুপুরের বনজ সম্পদ জাতীয়
সম্পদ। তিনি সবার সহযোগিতায় মধুপুর বনাঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার তাগিদ
দেন। আদিবাসী-বাঙালি সবাইকে মধুপুর বনকে বিশ্বে একটি মডেল হিসেবে তুলে ধরতে মন্ত্রী
আহ্বান জানান।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ
সীমিত বলে জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, ‘এটি অসম্ভব নয়। তবে এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার খুব সীমিত সুযোগ
রয়েছে। অন্যান্য
দেশে বাতিল করা ঋণ পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের মাত্র কয়েকটি নজির রয়েছে।’
পদ্মা সেতুর বেলায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ সীমিত হওয়ার
কারণ সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, দুর্নীতি প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত চারটি পদক্ষেপের
মধ্যে দুটি পদক্ষেপের ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক সাড়া দিতে পারেনি। এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। আজ মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
‘পদ্মা
সেতু প্রকল্প বাতিল-সংক্রান্ত প্রশ্ন-উত্তর’ শিরোনামে পাঠানো বিশ্বব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১২টি উপশিরোনামে
অর্থায়ন বন্ধের পর উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নে সংস্থাটির অবস্থান ব্যাখা করা হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংক বলছে, নিজস্ব নীতি অনুসারে
বিশ্বব্যাংক ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবং ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও দুর্নীতি
দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে দুটি তদন্তের তথ্যপ্রমাণ দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে
বিষয়টি পূর্ণ তদন্ত করতে এবং যথাযথ বিবেচিত হলে দুর্নীতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি
দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির যেসব প্রমাণ বাংলাদেশ
সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে, সরকার
চাইলে বিশ্বব্যাংক সেসব প্রতিবেদন ও চিঠি প্রকাশ করতে পারে। তবে সুপারিশমূলক রিপোর্টের
গোপনীয়তা বজায় রাখার ব্যাপারে বাংলাদেশসহ প্রত্যেক সদস্য দেশের কাছে বিশ্বব্যাংকের
দায়বদ্ধতা রয়েছে।
ঋণদাতা এই সংস্থাটি এ-ও জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের অনুরোধ
করা সব পদক্ষেপ ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশি আইন, রীতিনীতি ও বিধি-বিধানের
সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দুর্নীতির
বিষয়ে বিশ্বব্যাংক সরকারকে চারটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। তার মধ্যে সরকার দুটি করতে
পারেনি।
বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, এ ধরনের ঘটনা বিশ্বের যেকোনো দেশে হলেই একই ধরনের
পরিণাম হতো।
দালালকে ধরে পুলিশে দিলেন যোগাযোগমন্ত্রী
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ মঙ্গলবার সকালে হঠাত্ ঢাকার
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়
পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মোটরযান
পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করার নির্দেশ দেন। তিনি মোটরযান পরিদর্শক শেখ
মো. ইমরানকে কারণ দর্শানোর জন্য (শোকজ) বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনের সময় ওবায়দুল কাদের ইকুরিয়া বিআরটিএর সেবার মান
নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০) নামের এক দালালকে হাতেনাতে ধরে
পুলিশে সোপর্দ করেন।
ইকুরিয়া বিআরটিএর সহকারী পরিচালক শহীদুল্লাহ জানান, মন্ত্রী অনিয়মের অভিযোগে
দুই কর্মকর্তার একজনকে প্রত্যাহার ও অন্যজনকে কারণ দর্শানোর জন্য বলেছেন।
বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তে ড. ইউনূসের হাত নেই
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, পদ্মা সেতুর অর্থায়নের ব্যাপারে
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার সন্তোষজনক সমাধানে আসতে না পারায় তিনি নিরাশ। তবে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংকের হাত গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ড.
মুহাম্মদ ইউনূসের কোনো হাত নেই। এটি বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের দ্বিপক্ষীয়
বিষয়।
আজ বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বন বিভাগের একটি প্রকল্প
নিয়ে অভিজ্ঞতা-বিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। মধুপুর গড় এলাকার দোখলায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বিষয়ে এ দেশের সব রাজনৈতিক দলের
সংলাপে বসা দরকার। সংলাপে বসে আলোচনার ভিত্তিতে সমঝোতায় আসা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ
ব্যক্ত করেন।
বন বিভাগের এই প্রকল্পের নাম ‘রিভিজেটেশন অব মধুপুর ফরেস্ট
থ্রু রিহেবিলেশন ফরেস্ট ডিপেন্ডেন্ট লোকাল অ্যান্ড এথনিক কমিউনিটিস প্রজেক্ট’। বন বিভাগের এই প্রকল্পের কারণে বনের ওপর চাপ কমেছে
বলে মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে এ বনে গাছ কাটা
বন্ধ রয়েছে। বন মামলাও হয়নি। সরকার মধুপুর বনকে শুধু
বাঁচানোর কথাই বলছে না, বরং বনাঞ্চলে বসবাসরত ৪০-৫০ হাজার বনবাসীর জন্য কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অভিজ্ঞতা-বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক
এম বজলুল করিম চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মধুপুরের বনজ সম্পদ জাতীয়
সম্পদ। তিনি সবার সহযোগিতায় মধুপুর বনাঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার তাগিদ
দেন। আদিবাসী-বাঙালি সবাইকে মধুপুর বনকে বিশ্বে একটি মডেল হিসেবে তুলে ধরতে মন্ত্রী
আহ্বান জানান।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীকে সহায়তা
করে আসছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পেশ করা একটি প্রতিবেদনে।
সিনেটের পার্মানেন্ট সাব-কমিটি অন ইনভেস্টিগেশনসের একটি প্রতিবেদনে
আজ মঙ্গলবার বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে
জঙ্গি তত্পরতার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে।
অর্থ পাচার,
মাদক ব্যবসা ও জঙ্গি তৎপরতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা হুমকির এবং অপরাধগুলোকে এইচএসবিসি ব্যাংক
যেভাবে উত্সাহিত করেছে, তা নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান ব্যাংক আল রাজি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন
ধরনের জঙ্গি তত্পরতায় ভূমিকা রেখে আসছে। আল রাজি ব্যাংক বাংলাদেশ
ইসলামী ব্যাংকের এক-তৃতীয়াংশ শেয়ারের মালিক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এইচএসবিসি গ্রুপের মার্কিন ব্যাংক এইচবিইউএসে আল রাজি ব্যাংকের
কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ছিল। এসব অ্যাকাউন্টের জন্য আল রাজি এইচবিইউএসের কাছ
থেকে বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছিল। এর বদৌলতেই আল রাজি বিপুল পরিমাণ নগদ ডলার বাংলাদেশ
ইসলামী ব্যাংক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে পাঠিয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ ডলার জমা রাখবে, এমন আশ্বাস দিয়ে ব্যাংক
দুটি এইচবিইউএসে হিসাব খোলে এবং একসময় মার্কিন অর্থ-ব্যবস্থার অংশ হয়ে যায়।
প্রতিবেদনের আরেক অংশে বলা হয়, ‘আল রাজি ব্যাংকের সঙ্গে
কাজ করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এই ব্যাংকটি অর্থ পাচারের
জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশে কাজ করে। ইসলামী ব্যাংক এমন একজন ব্যক্তিকে হিসাব খোলার
অনুমতি দিয়েছিল, যিনি বোমা হামলার মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। অর্থ পাচারবিরোধী নীতি ভঙ্গ করে জঙ্গিদের সহায়তা করার দায়ে ব্যাংকটিকে এর
আগে তিনবার জরিমানা দিতে হয়েছিল।
মূল রিপোর্ট পাওয়া যাবে: http://www.prothom-alo.com/imagefiles/PSI%20REPORT-HSBC%20CASE%20HISTORY.pdf
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তে জনগণের
ব্যাপক সাড়া পেয়ে আগ্রহীদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহের জন্য দুটি ব্যাংক হিসাব খোলার
সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এছাড়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এক মাসের বেতন অনুদান হিসাবে
দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার
বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।
তিনি বলেন,
একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হবে যাতে আগ্রহী বাংলাদেশিরা এ দেশীয়
মুদ্রায় তাদের ইচ্ছেমাফিক অর্থ দিতে পারেন। আর দ্বিতীয়টি খোলা হবে প্রবাসীদের
জন্য, যাতে তারা বিদেশি মুদ্রায় সহায়তা দিতে পারেন।
এ দুটি অ্যাকাউন্ট কীভাবে পরিচালিত হবে তার পদ্ধতি ও নীতিমালা
চূড়ান্ত করার জন্য অর্থ বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সচিব জানান।
“যারা স্বেচ্ছায় পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বা নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান, তাদের অর্থই এ হিসাব দুটিতে
নেওয়া হবে।
এজন্য কাউকে চাপ দেওয়া হবে না। যে কোনো শ্রেণী বা পেশার মানুষ এ হিসাবে অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন”, বলেন তিনি।
২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার
জন্য চুক্তি করলেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি তা বাতিল করে বিশ্ব ব্যাংক।
এরপর প্রধানমন্ত্রী গত ৪ জুলাই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে
নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরেন। ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি বলেন।
এরপর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এবং বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের
পক্ষ থেকে এ প্রকল্পে সহায়তার বিভিন্ন ঘোষণা দেওয়া হয়।
মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা বলেন, “জনগণের কাছ থেকে অভূতপূর্ব
সাড়া পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং যারা এ পর্যন্ত স্বেচ্ছায় অর্থ
দিয়েছেন বা আগ্রহ দেখিয়েছেন তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।”
পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের এ উদ্যোগকে সরকারের ‘নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের
চেষ্টা’ বলে বিরোধী দল যে অভিযোগ এনেছে,
সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সচিব বলেন, এ ধরনের কোন আলোচনা মন্ত্রিসভার
বৈঠকে হয়নি। তবে এতে কারো কাছে থেকে জোর করে কিছু নেওয়া হবে না।
মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাদের এক মাসের বেতন স্বেচ্ছায় অনুদান
হিসাবে এই প্রকল্পের জন্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও সচিব জানান।
‘ওয়াকফ বিশেষ বিধান আইন’
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত একমাত্র
আইন ‘ওয়াকফ (সম্পত্তি হস্তান্তর ও উন্নয়ন) বিশেষ বিধান আইন, ২০১২’- এর খসড়া ভূমি ও সমাজকল্যাণ
মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আরো সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য ফেরত পাঠানো
হয়। এরপর তা আবারো মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
সচিব বলেন,
“ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য বর্তমানে একটি আইন রয়েছে। কিন্তু এতে ভূমি হস্তান্তর ও উন্নয়নে তেমন কোনো স্বচ্ছ ব্যবস্থা নেই। তাই এসব সম্পত্তি কোনো কাজে লাগছে না। এ থেকে কোনো আয়ও হচ্ছে না।
“তাই ধর্ম মন্ত্রণালয় এ আইনটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেছে। এতে ভূমি হস্তান্তর, আয় ও উন্নয়নের বিষয়গুলো সুস্পষ্ট করা হয়েছে। যা ভবিষ্যতে ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, হস্তান্তর ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ করবে।”
এছাড়া ২৯ থেকে ৩০ মে দোহায় অনুষ্ঠিত ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসলামিক বিশ্ব
ফোরাম’ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর এবং ১৬ এপ্রিল লন্ডনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ মন্ত্রিপর্যায়ের
বৈঠক এবং ১ থেকে ৩ জুন সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘শাংরিলা সংলাপে’ পররাষ্ট্র মন্ত্রীর অংশ নেওয়ার বিষয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার
বৈঠকে অবহিত করা হয়।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ে সব ধরনের জল্পনা-কল্পনার অবসান
ঘটিয়ে বাংলদেশ জানিয়ে দিলো; বর্দেমানে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার।
সোমবার (১৬ জুলাই) বঙ্গভবনে পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১-এর এই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইটে আদমশুমারির এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।একযোগে বাংলাদেশের সব জেলার সদরদপ্তর থেকে আদমশুমারির
ফল প্রকাশ করা হয় বলেও জানা গেছে।
নতুন এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত দশকে জনসংখ্যা প্রতিবছর
১ দশমিক ৩৭ শতাংশ হারে বেড়েছে যা ২০১১ সালে ছিল ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
নতুন তথ্যে দেখা গেছে; বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান -৭ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার ৫১৮ জন পুরুষ ও ৭ কোটি
৬১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৭ জন নারী। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি
বর্গকিলোমিটারে এক হাজার ১৫ জন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতীয় সম্পদ বন্টনে ভারসাম্য আনা, নির্বাচনী এলাকা চিহ্নিত
করা এবং চাকরিতে কোটা নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে এ প্রতিবেদনের তথ্য খুবই কাজে আসবে।
আদমশুমারির প্রাথমিক ফলাফলে জানানো হয়েছিল, ২০১১ সালের ১৫ মার্চ
দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার, যা ধারণার চেয়ে কম বলে তখন বিস্ময় প্রকাশ করেন অনেকেই। আগের বছর প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর আদমশুমারির তথ্য যাচাইয়ের
দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসকে।পরে
বিআইডিএস জানায়, তাদের মূল্যায়নে শুমারিতে
৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ মানুষ গণনা থেকে বাদ পড়ে।
এই ভুল সংশোধন করেই জনসংখ্যার চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ
করলো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
আদমশুমারির প্রকল্প পরিচালক অসীম কুমার দে জানান, চূড়ান্ত হিসাবে আদমশুমারির রাতে মোট জনসংখ্যা ছিল
১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৭২ হাজার। পরে আজকের (জুলাই ১৬) হিসেব-এ নতুন এই তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।
আদমশুমারি প্রকাশের এই অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী একে খন্দকার জানান, প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি বিদেশে থাকেন, যাদের আদমশুমারিতে গোনা
হয়নি।
নতুন তথ্যে পাওয়া গেছে;৭ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যার মধ্যে সাক্ষরতার হার ৫১ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ও নারীদের সাক্ষরতার হার যথাক্রমে
৫৪ দশমিক ১ ও ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতিবন্ধীদের হার ১
দশমিক ৪ শতাংশ।ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ১ দশমিক ১০ শতাংশ।
চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে, দেশে মোট খানার (এক রান্নায় যতজন খায়) সংখ্যা ৩ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৩০টি,
এর মধ্যে বাসাবাড়ির খানা ৩ কোটি ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৬টি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে দেশে প্রথম আদমশুমারি হয়।তখন প্রাথমিক ফলাফলে জনসংখ্যা ৭ কোটি ১৪ লাখ দেখা গেলেও চূড়ান্ত ফলাফলে তা বেড়ে
৭ কোটি ৬৪ লাখ হয়।
আর ২০০১ সালে চতুর্থ আদমশুমারিতে দেশের জনসংখ্যা ছিল
১২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার।জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল প্রতি
বর্গকিলোমিটারে ৮৩৪ জন।
১৬ জুলাই, ঢাকা: তিস্তার পানি বন্টন ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির সমঝোতার জন্যেও। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন; তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি ইস্যুতে ভারত তাদের অভ্যন্তরীন ঝামেলা মেটাতে ব্যস্ত। তারা পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন; “যেহেতু ভারতের সরকার পদ্ধতি বাংলাদেশের মতো নয় এবং তারা ফেডারেল সরকারি পদ্ধতিতে চলে তাই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সমঝোতা না হলে তিস্তার ইস্যুটি সমাধান কঠিন। আর সে কারণেই মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে তাদের বাৎচিৎ চলছে।” দীপু মনি জানিয়েছেন, “বাংলাদেশ এখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দিকে তাকিয়ে।” সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরোক্ষভাবে মমতা ব্যানার্জির দিকে তাকিয়ে।
বাংলাদেশে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সংগঠন ‘ইমক্যাব’-এর যাত্রা শুরু উপলক্ষে আয়োজিত পরিচিতি সভার প্রধান অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান; ভারতের সঙ্গে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি এবং টিপাইমুখে বাধ নির্মান ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে। তিনি জানান; ‘‘বাংলাদেশ ও ভারত বিশেষজ্ঞরা মিলে একটি যৌথ সমীক্ষার আয়োজন করছে টিমাইমুখে বাধ নির্মানের বিষয়টি নিরিক্ষা করে দেখতে।’’ আগামী দু’এক মাসের মধ্যেই ওই যৌথ কমিটি কাজ শুরু করতে পারবে বলেও আশাবাদী মন্ত্রী।
ডাক্তার দীপু মনির মতে; ছিটমহল বিনিময় এবং অপদখলীয় জমি হস্তান্তর এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দুই দেশের মধ্যকার ছিটমহলগুলোতে ‘হেডকাউন্ট’ বা মাথাগোনার কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে দীপু মনি বলেন; এখন শুধু ভারতের লোকসভায় বিষয়টি র্যাটিফাইড হওয়ার অপেক্ষা। তিনি আশা করেন, আগামী অধিবেশনেই বিষয়টির সূরাহা করে ফেলবে ভারত সরকার।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অমিমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে ভারত থেকে বিদুৎ কেনার প্রশ্ন উঠলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান; বেশ কয়েকটি জায়গায় ঐকমত হয়েছে। তিনি বলেন; ভারত, বাংলাদেশের কাছে বিদুৎ বিক্রির ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে। তবে তার জন্য দুই দেশের গ্রীডের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজও চলছে। ২০১৩ সাল নাগাদ দুই গ্রীডের সংযোগ কাজ শেষ হলে বিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়াটি শুরু হবে। এক্ষেত্রে তিনি ভারত সরকারের প্রতিশ্রুতির বরাত দিয়ে জানান; ভারতের কাছ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাজার দরেই পাওয়া যাবে। এছাড়া ত্রিপুরার পালাটানা বিদুৎকেন্দ্র নির্মানের জন্য মালামাল বহনের অনুমতি দিয়ে বাংলাদেশ যে সহযোগিতা করেছে সেখান থেকেও বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভবনার কথা জানান দীপু মনি। বলেন; “যতদূর জানি যে ওখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার পর তাদের কিছু বাড়তি থাকবে আমরা (বাংলাদেশ) সেখান থেকে বিদ্যুৎ কিনতে পারবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।” তাছাড়া ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে খুলনা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট কিংবা আন্তঃদেশীয় যাতায়াতের প্রশ্নে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান; এ নিয়ে একটি কোর কমিটি গঠিত হয়েছিলো। তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তার ভিত্তিতে হয়েছে যৌথ টাক্সফোর্স। সেই টাক্সফোর্সই এখন ট্রানজিট সহ দ্বিদেশীয় যাতায়াতের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তাদের কাছ থেকে গ্রীন সিগন্যাল পাওয়ার পরই এ নিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে।
সীমান্তে হত্যার প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান; সীমান্তে হত্যা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। তারপরও যে ক’টা ঘটনা ঘটছে তার জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে শক্ত প্রতিবাদ করছে এবং ভারত সরকার ওই ঘটনাগুলোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, “দুই দেশই চায় সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে।”
আলোচনায় বাংলাদেশ ও ভারত বিষয়ক আলোচনার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি। এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পদ্মাসেতু নির্মানের জন্য সই হওয়া ঋণ চুক্তি বিশ্বব্যাংক বাতিল করলেও তাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে না। কেননা বিশ্বব্যাংক তাদের অভিযোগ তুললেও সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য ও সঠিক পদ্ধতি মেনে তদন্ত করেনি।” তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক যেমন প্রশ্ন তুলেছে তেমনি বাংলাদেশও সময়-সুযোগ বুঝে বিশ্বব্যাংকের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। তবে আরেক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান; বাংলাদেশ এখন নিজেদের টাকাতেই পদ্মাসেতু নির্মানে আগ্রহী। সেক্ষেত্রে আজই (১৬ জুলাই) পদ্মাসেতু নির্মানে সহায়তা করতে আগ্রহী দেশের মানুষ ও প্রবাসীদের জন্য পৃথক দুটি ব্যাংক একাউন্ট খোলার কথাও জানিয়েছেন ডাক্তার দীপু মনি।
এছাড়া মিয়ানমারের (বার্মা) অভ্যন্তরীর দাঙ্গা এবং সেই দাঙ্গার কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের প্রশ্নে ডাক্তার দীপু মনির সাফ জবাব; বাংলাদেশ চায় নিজের দেশ থেকে সকল মিয়ানমারের নাগরিক স্বদেশে ফিরে যাক। এজন্য দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ অভিযোগ তুলবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশ চায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে। তবে এই আলোচনায় এরই মধ্যে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক অধিদপ্তর, ইউএনএইচসিআর, বালি প্রসেসসহ বড় বড় দাতাগোষ্টিরা জড়িত রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান; মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতির জুলাইয়ের ১৫ তারিখে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা থাকলেও তাদের দেশের জরুরী অবস্থার কারণে তা পিছিয়েছে। তবে রোজা ও ঈদের পর তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি।
পদ্মাসেতু নির্মানে অর্থায়নের প্রশ্নে জাপান এখনও আগের অবস্থানে আছে জাপান। অর্থাৎ তারা এখনও তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি বাংলাদেশকে টাকা দিতে আগ্রহী। তবে এ বিষয়ে এখনই ‘ফাইনাল সিদ্ধান্ত’ নিতে রাজি নয় তারা। বরং এ বিষয়ে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ পলিসিতে চলতে চায় জাপান।
ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা জানিয়েছেন; অর্থায়নের বাকি অংশ কিভাবে আসবে এবং দূর্নীতি নিয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা কী হবে তার দিকে নজর থাকছে জাপানের। বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন; ডিক্যাব এর নিয়মিত আয়োজন ‘ডিক্যাব-টক’ -এর অতিথি হিসেবে এসে জাপানের রাষ্ট্রদূত আরও বলেছেন; রাজনৈতিক উত্থান-পতন স্বাভাবিক তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তারা আস্থাশীল।
জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমার কাছে প্রশ্ন ছিলো পদ্মাসেতুর দুর্নীতি এবং ওই প্রকল্পে জাপান থাকছে কিনা সেই প্রসঙ্গে। তিনি বলেন; “পদ্মাসেতু নির্মানের অর্থায়নে এখনও আমাদের (জাপান) প্রতিশ্রুতি বহাল আছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকের অংশটির কী হবে; কেননা ওই অংশটাই সবচে বড়। প্রকল্পটি প্রায় ৩শ কোটি ডলারের যার সিংহভাগ দেওয়ার কথা ছিলো বিশ্বব্যাংকের। সেই শূন্যতা পূরণ সহজ নয়। আমাদের পক্ষে পুরোটা তো নয়ই বরং বিশ্বব্যাংকের অংশ দেওয়া সম্ভব নয়।”
রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয়, পদ্মাসেতু নির্মানের পুরো টাকাটা জাপান দিয়ে দিতে পারে কিনা? ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা বলেছেন; “এত বড় অংশ তাদের জন্য দেওয়া শুধু কঠিনই নয় বরং প্রায় অসম্ভব। তিনি আরও জানান; বিশ্বব্যাংকের অংশটুকুও জাপানের পক্ষে দেওয়া কঠিন।”
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সৃষ্ট বাংলাদেশের এই ‘ঝামেলা’কে বাংলাদেশ কিভাবে কাটিয়ে উঠবে সে দিকে জাপান তাকিয়ে আছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তার মতে, বাংলাদেশকেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন; জাপানি করদাতারা তাদের টাকার ব্যবহার নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলবেন। আমরা যে টাকাটা দেব; সেই টাকার বিপরীতে আমাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তারাও বাংলাদেশের অভিযোগের ইস্যুটি জানতে চাইবে।
বলা বাহুল্য; বহুল আলোচিত বাংলাদেশের পদ্মাসেতু নির্মানের খরচ ধরা ছিলো ২৯০ কোটি মার্কিন ডলার। এই টাকার বড় অংশটিই আসার কথা ছিলো বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে পরিচিত; বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে। সেইমতো প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলো বিশ্বব্যাংক। পুরো প্রকল্প প্রায় নিশ্চিতই ছিলো। বাংলাদেশের সঙ্গে বহুপক্ষের একটি সমঝোতাও হয়েছিলো আগেই। সেই সমঝোতার হিসেবে বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি; এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক;এডিবি ৬১ কোটি; জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ৪১ কোটি এবং ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক, আইডিবি’র দেওয়ার কথা ছিলো ১৪ কোটি মার্কিন ডলার। অথচ যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী আবুল হোসেনসহ মন্ত্রনালয়ের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ আনে বিশ্বব্যাংক। তাদের অভিযোগ অনুযায়ি; কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, কানাডার এসএনসি-লাভালিনের জন্য বরাদ্দ ৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার থেকে ১০ শতাংশ ঘুষ দাবী করে মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। যদিও শুরু থেকেই বিশ্বব্যাংকের ওই অভিযোগ আমলে নেয়নি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত অস্বীকারই করে; প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্বব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন। আর সে কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে পদ্মাসেতু নিয়ে করা ঋণ চুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। এরপর থেকেই সৃষ্টি হয় ঝামেলা; মতৈক্যের।
জাইকার মাধ্যমে পদ্মাসেতুতে ৪১ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে জাপান সরে আসেনি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান; তবে তাদের সরকারকেও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তাই এই ইস্যুতে বাংলাদেশের দিকেই তাকিয়ে তারা।
শিরো সাদোশিমা বলেন; যেহেতু একটা অভিযোগ উঠেছে সেজন্য আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল করছি; এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অ্যাকশন কী হয়। কেননা বাংলাদেশের ওই অভিযোগ খতিয়ে দেখা উচিত।
বিনিয়োগ পরিবেশের প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন; বাংলাদেশের প্রতি তাদের ব্যবসায়ীদের আস্থা আছে বলেই বিনিয়োগ কমেনি। রাষ্ট্রদূত বলেন; আপনি যদি জানতে চান; বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী ভালো? আমি বলবো; অবশ্যই ভালো। কখনও কখনও এখানে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়; সেটা কমবেশি সব দেশেই হয়। রাজনৈতিক উত্থান-পতন সবখানেই আছে। বরং বাংলাদেশে কমই আছে।
মেট্রোরেল ইস্যুতে করা প্রশ্নের উত্তরে জাপানের রাষ্ট্রদূত জানান; ওই প্রকল্পটি নিয়ে কাজ চলছে। তবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। পান্থ রহমান