পৃষ্ঠাসমূহ

বৃহস্পতিবার, ২১ জুন, ২০১২

বিচারপতি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন


জাতীয় সংসদের স্পিকার সম্পর্কে সম্প্রতি কিছু মন্তব্য করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীবিচারপতির মন্তব্য সম্পর্কে গতকাল সোমবার সংসদে দেওয়া রুলিংয়ে স্পিকার এ কথা বলেন
স্পিকার আবদুল হামিদ আশা প্রকাশ করেছেন, প্রধান বিচারপতি ভেবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেনএকই সঙ্গে স্পিকার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের জন্য সাংসদদের প্রস্তাব প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, একজন বিচারকের অশোভন আচরণ রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে ব্যাহত করতে পারে না
৫ জুন জাতীয় সংসদের স্পিকারকে উদ্দেশ করে হাইকোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী কিছু মন্তব্য করেছিলেনএকই দিন সংসদে কয়েকজন সাংসদ এর তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ওই বিচারপতিকে অপসারণের দাবি জানানএর ১৩ দিনের মাথায় গতকাল সোমবার স্পিকার রুলিং দিলেন
গত রাতে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদ ও সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রের দুটি সাংবিধানিক স্তম্ভআমি মনে করি, মাননীয় স্পিকার সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই দুটি সাংবিধানিক স্তম্ভের মধ্যে যেন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধ সৃষ্টি না হয়, সেটা বিবেচনায় রেখে রুলিং দিয়েছেনওই বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্পিকার বিষয়টি ভেবে প্রধান বিচারপতির বিবেচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেনব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে স্পিকার পরিমিত ভাষায় সংসদের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেনসংবিধান নিয়ে যে একটা জটিল সমস্যা দেখা দিয়েছিল, স্পিকার তার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান দিতে সক্ষম হয়েছেন
স্পিকার রুলিংয়ে বলেন, ‘২৯ মে সংসদে আমার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ৫ জুন হাইকোর্টের একজন মাননীয় বিচারপতি সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে সংসদ সম্পর্কে, আমার সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন, তা কোনো বিবেকবান মানুষ উচ্চারণ করতে পারেন কি না, আমার সন্দেহ আছেরাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ উত্থাপনের আগে রাষ্ট্রদ্রোহ কী, কোন কাজ রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে, রাষ্ট্রদ্রোহের বিষয়টি কে নির্ধারণ করতে পারেনএসব বিষয় গভীরভাবে চিন্তা করলে বিজ্ঞ বিচারপতি বিজ্ঞতার পরিচয় দিতেন
স্পিকারের এ রুলিংয়ের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিবেশনকক্ষে ছিলেন না
স্পিকার আবদুল হামিদ বলেন, ‘আদালতের এ ধরনের আচরণে কী করণীয় থাকতে পারে, প্রধান বিচারপতি সে বিষয়টি ভেবে যে ব্যবস্থা নেবেন, তাতে আমাদের সমর্থন থাকবেএর ফলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা হয়তো সম্ভব হবে
গত ২৯ মে সড়ক ভবন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে সংসদে সাধারণ আলোচনা হয়সেদিন স্পিকার এবং সাংসদেরা এ বিষয়ে তাঁদের মতামত দেনএর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ মে হাইকোর্টের বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী স্পিকারকে উদ্দেশ করে কিছু মন্তব্য করেন
গতকাল অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপনের পরপরই স্পিকার এই রুলিং দেনসাংসদদের উদ্দেশে আবদুল হামিদ বলেন, ‘২৯ মে এ সংসদে কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি কিছু কথা বলেছিলামআমার বক্তব্যের বিষয় ছিল মূলত সংসদ, আদালত ও নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক এবং তাদের কল্যাণ সাধনসংসদ সদস্যদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই তাক্ষণিক কিছু সাধারণ মন্তব্য করা হয়েছিলএরপর ৫ জুন অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশিত হয়, একজন মাননীয় বিচারপতি আমার বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন এবং আমার ও জাতীয় সংসদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করেছেন
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন স্পিকারবলেন, ‘কিছুদিন আগে বরেণ্য শিক্ষাবিদ আবদুল্ল্লাহ আবু সায়ীদের বিষয়ে সংসদে কিছু আলোচনা হয়েছিলযখনই সংসদের কাছে তাঁর বক্তব্য সম্পর্কিত সঠিক ব্যাখ্যা গোচরীভূত হয়, তখনই সংসদ এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেছেঅপ্রয়োজনীয় অংশ এক্সপাঞ্জ করেছেআমাদের প্রত্যাশা ছিল, মাননীয় বিচারপতি বিষয়টি হূদয়ঙ্গম করবেন এবং তাঁর মাত্রা অতিক্রম করা বক্তব্য পরিহার করবেনকিন্তু তিনি তা করেননি
আবদুল হামিদ আরও বলেন, ‘আদালতে বিচারকের মন্তব্যের সূত্র ধরে অনেকেই, বিশেষ করে, পত্রপত্রিকাগুলো সংসদ এবং বিচার বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেআসলে সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে কোনো বৈরী ভাব নেইএটি সংসদ সম্পর্কে একজন বিচারপতির কিছু অসৌজন্যমূলক মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ-প্রসূত উক্তিপুরো বিচার বিভাগকে এর সঙ্গে জড়ানো ঠিক হবে না
পরিশেষে সাংসদদের দাবি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার বলেন, ৫ জুন সাংসদেরা ক্ষোভ প্রকাশের একপর্যায়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতিকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিলেনএ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছিলেনএই প্রস্তাবকে সমর্থন করে স্পিকার বলেন, ‘বিনীতভাবে বলতে চাই, একজন বিচারকের অশোভন আচরণ রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে ব্যাহত করতে পারে নাসার্বিক বিবেচনায় এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ সমীচীন হবে বলে মনে করি না
ক্ষমতাসীন মহাজোটের সাংসদ রাশেদ খান মেনন গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্পিকারের রুলিংয়ে আমরা সন্তুষ্টরাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের মধ্যে ভারসাম্য রাখার জন্য এ ছাড়া কোনো উপায় ছিল নাকারণ, বিষয়টি একজন বিচারপতিকে কেন্দ্র করে, পুরো বিচার বিভাগ নিয়ে নয়
প্রতিবেদন: সংগ্রহ

মানব পাচার সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি

আন্তর্জাতিক মানব পাচার সূচকে এক ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানব পাচার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের এই উন্নতির কথা জানানো হয়েছে। তবে অভিবাসন বিষেজ্ঞদের মতে, এই হিসেবও ত্রুটিপূর্ন। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশীদের অভিবাসনের সঙ্গে পাচারের বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। সরকারের উচিৎ এই ত্রুটি সংশোধনে উদ্যোগি হওয়া।

সরকারী হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য আর দূরপ্রাচ্য মিলিয়ে অভিবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭১ লাখ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ অভিবাসীদের ধরলে এই সংখ্যা প্রায় দেড় কোটিতে দাড়াবে। বিশ্ব শ্রমবাজারে থাকা অভিবাসীরা বছরে দেশে পাঠান প্রায় ১২শ কোটি ডলার বা ৯৬ হাজার কোটি টাকা। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অনেক। অথচ বাংলাদেশের শ্রমিক অভিবাসনের সঙ্গে মানব পাচারের বিষয়টি মিলিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাতেই আপত্তি অভিবাসন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ তাসনিম সিদ্দিকী বলেন; যে প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে তাতে বেশ কিছু বিষয়ে আপত্তি আছে আমার। বিশেষ করে, প্রতিবেদনে অভিবাসনের সঙ্গে মানব পাচারের বিষয়টি গুলিয়ে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন হয় এবং সেই অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে হয়তো ঝামেলা আছে বিশেষ করে অভিবাসন খরচ নিয়ে অনেকের আপত্তি আছে এবং বিষয়টি সত্য। সেখানে মিথ্যা, দূর্নীতি হয়; তার মানে এই নয় যে ওই মানুষগুলোকে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। অবৈধ পথে অভিবাসী হওয়া আর মানব পাচারের মধ্যে পার্থক্য আছে।
টানা তিন বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারীর মধ্যে থাকা বাংলাদেশ; মানব পাচার রোধে আইন প্রণয়নসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ায় সূচকে একধাপ উন্নতি হয়েছে বলে দেখানো হয় মার্কিন প্রতিবেদনে।
তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, সূচকে বাংলাদেশকে একধাপ ওপরে ওঠানোয় আমরা তাদের ধন্যবাদ দিতে পারি। কিন্তু মূল সমস্যা হলো অন্যখানে; বেশ কিছু অস্বচ্ছ এবং ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে, যার সংশোধন হওয়া উচিত।
তাসনিম সিদ্দিকী আশা করেন বাংলাদেশ সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে ভুল সংশোধন করে পুনরায় প্রতিবেদনটি প্রকাশের অনুরোধ জানাবেন।
এই বিশেষজ্ঞের মতে, এই অবস্থান থেকে আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। এইজন্য প্রয়োজন পাচার আইনের সঠিক বাস্তবায়ন এবং মাঠ পর্যায়ের দালালদের বিচারের আওতায় আনা ।
পান্থ রহমান

বুধবার, ২০ জুন, ২০১২

পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের রায় গিলানি প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য


পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত গতকাল মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের সদস্য পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করেছেন আদালত অবমাননার দায়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার দুই মাস পর সুপ্রিম কোর্ট এই আদেশ দিলেন আদালতের এই রায়ের পর পাকিস্তান নতুন করে রাজনৈতিক সংকটে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা
সুপ্রিম কোর্টের গতকালের আদেশে বলা হয়, গিলানি আর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নন
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির বিরুদ্ধে সুইজারল্যান্ডের আদালতে দায়ের হওয়া অর্থ পাচারের মামলা পুনরায় চালু করতে সুইজারল্যান্ডের সরকারকে চিঠি লিখতে প্রধানমন্ত্রী গিলানিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু গিলানি সেই নির্দেশ পালন না করায় গত ২৬ এপ্রিল তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় সে সময় গিলানিকে শুধু প্রতীকী দণ্ড দেওয়া হয়েছিল
প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরী রায় পড়ে শোনান আদেশে বলা হয়, ২৬ এপ্রিলের রায়ের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আপিল করা হয়নি সুতরাং ইউসুফ রাজা গিলানি পার্লামেন্টের সদস্য পদে থাকার অযোগ্য হয়ে গেছেন ২৬ এপ্রিল থেকেই এই আদেশ কার্যকর এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য বলে বিবেচিত হবে
এর আগে গতকাল ২৬ এপ্রিলের রায় সম্পর্কে জাতীয় পরিষদের স্পিকার ফাহমিদা মির্জার দেওয়া রুলিং চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আবেদনের ওপর শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি ইফতিখার মোহাম্মদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে শুনানির পর আদালত স্পিকারের ওই রুলিং অকার্যকর ঘোষণা করেন
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আদালতের এই আদেশের পর আবারও রাজনৈতিক সংকটে পড়ল পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর গিলানি কী পদক্ষেপ নেবেন, তা এখনো পরিষ্কার নয় এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার অর্থ সরকারের পতন কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়
ইসলামাবাদ থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, আদালতের গতকালের রায়ের পর ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) জ্যেষ্ঠ নেতারা ইসলামাবাদে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি পিপিপির জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী গিলানিও বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন
আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী গিলানি বলেছিলেন, কেবল পার্লামেন্টই তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করতে পারে
প্রতিবেদন: সংগ্রহ এবং সম্পাদনা: পান্থ রহমান

পদ্মা সেতু নিয়ে দুদকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন ১০% ঘুষ চান মন্ত্রী-সচিব


পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ ছিল চার কোটি ৭০ লাখ ডলার। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের কাছে ১০ শতাংশ অর্থ কমিশন চেয়েছিলেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ তিনজন। তাঁরা হলেন: সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা এবং পদ্মা সেতুর সাবেক প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম। তাঁদের প্রতিনিধিরা এই অর্থ কমিশন হিসেবে চান।
অর্থের অবৈধ লেনদেনের জন্য গ্রেপ্তার হওয়া এসএনসি-লাভালিনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়েরে দুহাইমের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েছে কানাডার পুলিশ। আর বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে।
দুর্নীতির এই সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে নতুন করে আবার তদন্ত শুরু করেছে দুদক। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক সরকারের কাছে একটি চিঠি দিয়ে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার আহ্বান জানায়। সরকার নতুন কোনো কমিটি গঠন না করলেও দুদকই নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ১৪ জুন দুদক সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আর গতকাল মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে জাতীয় সংসদের হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের ভাই নিক্সন চৌধুরীকে এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দুদক বলেছিল, তারা পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি খুঁজে পায়নি।
সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা সই করলেও সরকার এখন বিশ্বব্যাংকসহ দাতাদের ঋণেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন চায়। এরই অংশ হিসেবে দুদক তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে দুদক তথ্য চাইলে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয় সরকারকে। ওই প্রতিবেদন থেকেই দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানতে পারে দুদক। প্রতিবেদনে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, তাঁর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সাকো ইন্টারন্যাশনালের সংশ্লিষ্টতা এবং সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা ও প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলামের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য রয়েছে বলে দুদক সূত্র জানায়।
সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়া বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান। তাকেও পাওয়া যায়নি।
কমিশনের হাতে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। গতকাল প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বাংলাদেশে আসা বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে পদ্মা সেতু নির্মাণে পরামর্শক নিয়োগের বিষয়ে বেশ কিছু অসংগতির তথ্য রয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের পরিধি বাড়িয়েছে দুদকের তদন্ত দল।
নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের তদন্ত দলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এসএনসি-লাভালিনের কাছে ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে কানাডীয় তদন্ত দল। কিন্তু কানাডার আইন আর বাংলাদেশের আইনের প্রেক্ষাপট এক নয়। কানাডার প্রেক্ষাপটে ঘুষ লেনদেনের চেয়ে এ বিষয়ে কথা বলাই অপরাধ। কিন্তু বাংলাদেশে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা পরে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে দুই দেশের আইনের পার্থক্যে ও সংস্কৃতি পার্থক্যের কারণে প্রতিবেদনের হেরফের হতে পারে বলে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন কমিটি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম সুপারিশ করেছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: এসএনসি-লাভালিন, যুক্তরাজ্যের হালক্রো গ্রুপ, নিউজিল্যান্ডের একম অ্যান্ড এ জেড এল, জাপানের ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট কোম্পানি লিমিটেড এবং যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডের যৌথ বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান হাই পয়েন্ট রেন্ডাল। এর মধ্যে এসএনসি-লাভালিনকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদনের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এর পরই এ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার সহায়তা স্থগিত করে দেয়। এ নিয়ে কানাডা পুলিশ এখনো তদন্ত করছে। আর তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক এসএনসি-লাভালিনকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী তাঁর আত্মীয় জিয়াউল হককে নিয়ে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হাসানের সঙ্গে সেতু ভবনে পদ্মা সেতু-সম্পর্কিত এক বৈঠকে অংশ নেন। তাঁর ওই আত্মীয় হচ্ছেন বাংলাদেশে কানাডিয়ান এসএনসি-লাভালিনের স্থানীয় একজন প্রতিনিধি। তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও দেওয়া রয়েছে প্রতিবেদনে। লালমাটিয়ার এ ব্লকের ৭/৪ নম্বর বাড়ি।
প্রতিষ্ঠানের নাম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট কোম্পানি লিমিটেড। দুদকের জিজ্ঞাসাবাসে তিনি ওই বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এতে কোনো অর্থের লেনদেন হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া, জাতীয় সংসদের হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনের ভাই নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে এসএনসি-লাভালিনের বাংলাদেশি কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে। কানাডা ও বাংলাদেশের যেসব হোটেলে তাঁদের নিয়মিত সাক্ষা হতো তার ঠিকানা ও সময়সূচিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিক্সন চৌধুরী পিতা মরহুম সাংসদ ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর রেখে যাওয়া পারিবারিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিতা কনস্ট্রাকশন ও মহাখালীতে একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের দেখাশোনা করেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর দরপত্রে অংশগ্রহণ করার পরই উভয়ের মধ্যকার দেখা-সাক্ষা শুরু হয়। এসব বৈঠকে সেতু বিভাগের সাবেক সচিব এবং প্রকল্প পরিচালকও উপস্থিত থাকতেন বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ প্রথম তুলেছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। সে সময়ে অর্থমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়ে এই দুর্নীতির সঙ্গে সৈয়দ আবুল হোসেনের সম্পৃক্ততার কথা জানানো হয়। এরপর সরকার মন্ত্রী, সচিব ও প্রকল্প পরিচালককে অন্যত্র সরিয়ে দিলেও আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সৈয়দ আবুল হোসেন এখন তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তিমন্ত্রী। বিশ্বব্যাংক এর পর থেকে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে সাহায্য স্থগিত করে রাখে। এরপর গত এপ্রিলে দুর্নীতির প্রমাণ দিয়ে আবার একটি চিঠি দেয় বিশ্বব্যাংক। তাতেও সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সবশেষ চলতি মাসে আবার একটি চিঠি দেওয়ার পর তদন্ত শুরু করে দুদক।
নিক্সন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ: গতকাল সকাল সোয়া নয়টায় সেগুনবাগিচায় দুদকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন নিক্সন চৌধুরী। ১১টা পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তিনি দ্রুত একটি গাড়িতে উঠে চলে যান।
পরে দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক কিছু তথ্য-উপাত্ত দুদককে দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে জোরেশোরে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। এই অনুসন্ধানের বিষয়ে এ মাসের শেষে বা আগামী মাসের প্রথম দিকে কানাডীয় পুলিশের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ পাবে দুদক।
দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, এসএনসি-লাভালিনের দুই কর্মকর্তাকে সম্প্রতি আটক করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে কানাডা। দুদক ওই দুই ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। নিক্সন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ নিয়েই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন: সংগৃহীত/পান্থ রহমান

খুলনায় প্রভাবশালীদের পেটে ৫ খাল


খুলনা নগরের চারপাশে বয়ে গেছে ২২টি খাল। একসময় খালগুলো দিয়ে নৌকা চলত কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দখল-বাণিজ্যে খালগুলো এখন রুগ্ণ, অনেকটা মৃতপ্রায়।
২২টি খালের মধ্যে পাঁচটির অবস্থা সবচেয়ে করুণ। দুই পাড় দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতঘরসহ নানা স্থাপনা। এমনকি খুলনা সিটি করপোরেশনও (কেসিসি) খালের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। ২৫-৩০ বছর ধরে চলছে এ অপতপরতা।
প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এখন খালের জমি নিজেদের বলে দাবি করছেন। তবে কেসিসির ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার প্রথম আলোকে বলেছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দাবি সত্য নয়। এরই মধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অচিরেই অভিযান শুরু হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ দত্ত গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, এমনিতেই খুলনা নগর বাঁধবেষ্টিত নিচু এলাকা। তার ওপর এই খালগুলো যত দিন দখলমুক্ত না হবে, তত দিন নগরে জলাবদ্ধতার সংকট দূর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুজ্জামান শিগগিরই খালের জায়গা দখলমুক্ত করতে বৃহত্তর আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।
গোড়া খাল (লবণচরা খাল): এটির দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৪০-৫০ ফুট। দুই পাশের অধিকাংশ জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় ৪৫ ব্যক্তি খালের জমিতে পাকা, কাঁচা, আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস ও ব্যবসা করছেন।
১৯৯০ সালে লবণচরা এলাকার প্রভাবশালী আবদুল মালেক খালটির ইজারা নেন। তাঁর মৃত্যুর পর খালটির দখল-প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তি খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে প্লট তৈরি করে মানুষের কাছে বিক্রি করেছেন।
এর মধ্যে আবদুল মতিন, আ. সালাম ও আবদুর রহমান দাবি করেন, তাঁরা আবদুল মালেকের আত্মীয় সেকেন্দার মুহুরির কাছ থেকে খালের জমি কিনে বসবাস করছেন। তাঁদের কাছে জমির দলিলপত্র আছে। ১৯৯৯ সালে কেসিসি অবৈধভাবে খালটির লবণচরা এলাকায় ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় ও নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যাকেন্দ্রের ভবন নির্মাণ করেছে।
মান্দার খাল: এটি নগরের বানরগাতি আল-আমিন মহল্লা দিয়ে ঢুকে শ্মশান ঘাটের পাশ দিয়ে ময়ূর নদে মিশেছে। এর দৈর্ঘ্য দুই কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৫০-৬০ ফুট। এর প্রায় এক কিলোমিটার স্থানীয় প্রভাবশালী মহল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে।
কেসিসির ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, মান্দার খালের বিশাল অংশ দখলে নিয়েছেন ১৩ জন। তাঁরা হলেন বন বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা শাজাহান, স্থানীয় বাসিন্দা যশুয়া পাটোয়ারী, মোহন বাড়ই, চান মিয়া, বজলুর রহমান, হক বেপারী, রফিকুল ইসলাম, মকবুল হোসেন, মোস্তফা, মাহমুদা, হাবিবুল্লাহ ও মাহবুব মোর্শেদ।
দখলদারদের বিরুদ্ধে কেসিসি উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু তারা কেসিসির বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত উচ্ছেদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ বিষয়ে শাজাহান দাবি করেন, খাল দখলের অভিযোগ সঠিক নয়। ওই জমি হালট (গরু-ছাগলের চারণক্ষেত্র)। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা আছে।

গল্লামারী নর্থ ব্যাংক খাল: চার কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি ফারাজীপাড়া ময়লাপোতা মোড় থেকে গল্লামারী সেতুর পাশে ময়ূর নদে মিশেছে। এর প্রস্থ ২০-২৫ ফুট। দীর্ঘদিন খালের দুই পাশ দখল হওয়ার পর বর্তমানে প্রস্থ ৬-১০ ফুটে নেমে এসেছে। এই খালের জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় জলিল তালুকদার, মো. নূর, মো. ইউসুফ, কাশেম সরদার, বক্কার, ওয়াহিদুজ্জামান ও আবু সাঈদসহ কয়েকজন খালের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।
এ বিষয়ে জলিল তালুকদার, ওয়াহিদুজ্জামান ও বক্কার দাবি করেন, তাঁদের কাছে জমির কাগজপত্র আছে। তাঁরা বৈধভাবে ঘরবাড়ি বানিয়েছেন।
এ খালে স্থাপনা নির্মাণ করায় নগরের বানরগাতি, পশ্চিম বানিয়াখামার, বসুপাড়া, ইকবাল নগর, সোলাইমান নগর ও ফারাজীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হলে পানি নামতে পারে না।
হরিণটানা নারকেলবাড়িয়া খাল: এটি নগরের হরিণটানা এলাকা দিয়ে নিরালা হয়ে ময়ূর নদে মিশেছে। এর দৈর্ঘ্য তিন কিলোমিটার ও প্রস্থ ৬০ ফুট। এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের জায়গা দখলের পর প্লট তৈরি করে বিক্রি করেছেন।
তাঁদের মধ্যে আছেন খলিলুর রহমান, আবেদ আলী, ক্লিপ অধিকারী, শহিদুল ফকির, আবদুল মান্নান, সাহেব আলী, বাদল, চপল ও হেকমত গাজী।
খালের জায়গা দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে আবেদ আলী বলেন, ‘খালের জায়গা আমি দখল করিনি। খালের পাশে আমার একটি মুরগির খামারের ছাউনি ছিল, তা অনেক আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
মতিয়াখালী খাল: এটি খুলনা শিপইয়ার্ডের উত্তর পাশ দিয়ে রূপসা নদী দিয়ে বের হয়ে নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম টুটপাড়া ছড়িছড়া খালের সঙ্গে মিশেছে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতা খালের জায়গা দখল করে পশ্চিম টুটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নির্মাণ করেন। এর বিভিন্ন অংশে বাঁধ বা পাটা দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এ ছাড়া খালের ওপর কেসিসি রাস্তাও নির্মাণ করেছে। খালের উভয় পাশের বাসিন্দারা অবৈধভাবে জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এ খালটির দৈর্ঘ্য আড়াই কিলোমিটার ও প্রস্থ ৫০-৬০ ফুট। তবে দখলের কারণে এখন খালটি বিভিন্ন স্থানে সরু নালায় পরিণত হয়েছে।
খাল দখলের বিষয়ে কেসিসির ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় থাকা ২২টি খালের মালিকানা জেলা প্রশাসনের। তবে এগুলো তদারকির দায়িত্ব কেসিসির। এর মধ্যে পাঁচটি খালের বেশ কিছু অংশ অবৈধ দখল হয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য ১৪ মে প্যানেল মেয়র-১ আজমল আহমেদের সভাপতিত্বে কেসিসিতে সভা হয়। এতে দখল হয়ে যাওয়া খালগুলোর সীমানা নির্ধারণ করে পিলার স্থাপন এবং রেকর্ড সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খালগুলো পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ ও পিলার স্থাপনের কাজ চলছে। এ ছাড়া খালের ওপর কেসিসির যেসব স্থাপনা আছে, তা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা আরও জানান, ২০০০ সালে শেষ হওয়া সর্বশেষ ভূমি জরিপে সরকারি এই খালগুলোর আয়তন কমিয়ে রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল অর্থের বিনিময়ে জরিপ কর্মকর্তাদের হাত করে সরকারি খালের জমি তাদের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শতাধিক আপত্তি দেওয়া হয়েছে। তবে আজও কোনো সুরাহা হয়নি।
প্রতিবেদন: সংগৃহীত এবং সম্পাদনা: পান্থ রহমান

মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১২

মিয়ানমারের জাতিগত দাঙ্গায় উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ

মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি জানিয়েছেন, নতুন করে শরণার্থী প্রবেশের সুযোগ দেবে না বাংলাদেশ।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দাঙ্গায় জীবন এবং সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আবারো রোহিঙ্গা শরণার্থী অনুপ্রবেশের আশংকাও করছে ঢাকা। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে তাই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি বলেছেন, সরাসরি আমাদের কোন উদ্বেগের কারণ না থাকলেও যখন আমাদের পাশের কোন দেশে এমন কোন ঘটনা ঘটে তখন তো উদ্বেগের কারণ থাকেই। তবে আমাদের সীমান্তবর্তী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনির সদস্যরা সতর্ক আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন; সীমান্ত এলাকার জেলাগুলোর জেলা প্রশাসকদেরও এ বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
একই কথা বলেছেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সতর্কতা রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বিজিবি, কোষ্টগার্ডসহ সীমান্তে বাংলাদেশের সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনিকে সতর্ক রাখা হয়েছে। তারা বিষয়টির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।
প্রায় ২৯ হাজার নিবন্ধিত এবং মতভেদে প্রায় ৫ লাখ অবৈধ রোহিঙ্গা শরনার্থী আছে বাংলাদেশে। তারপরও জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক বিভাগ; ইউএনএইচসিআর আরো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দিতে অনুরোধ জানিয়েছে বলে যে খবর, তার উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন; তেমন কোন প্রস্তাব আসেনি।
ডাক্তার দীপু মনি বলেন; এমনিতেই বাংলাদেশে থাকা বৈধ এবং অবৈধ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরনার্থী নিয়ে আমাদের দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।
এর মাঝে নতুন করে আবারও তাদের জায়গা দেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের সরাসরি কোন উত্তর না দিলেও তিনি বলেছেন; তেমন সম্ভবনা নেই। তাছাড়া ইউএনএইচসিআর থেকে তেমন কোন প্রস্তাবও আমরা পাইনি। তাছাড়া বাংলাদেশে এইমুহুর্তে যত রোহিঙ্গা রয়েছে তাদের জন্য বাংলাদেশের বন-পরিবেশ, সম্পদ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা তো তৈরি হয়েছেই।
মিয়ানমারের দাঙ্গায় সীমান্ত জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হলেও বাড়তি ফোর্স পাঠানো হবে কিনা; এমন প্রশ্নের উত্তর দেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পান্থ রহমান

বুধবার, ৬ জুন, ২০১২

বাংলাদেশ রাজি না হলে টিপাইমুখ বাঁধ নয় ॥ ভারতের পানিসম্পদ সচিব


বাংলাদেশ রাজি না হলে বরাক নদীর টিপাইমুখে একতরফা বাঁধ নির্মাণ করবে না ভারত। দেশটির পানিসম্পদ সচিব ধ্রুব বিজয় সিং ৪ জুন, বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন সোমবার নয়াদিলি্লতে ভারতের কর্মকর্তারাও একই কথা জানিয়েছেন ভারত এই জলবিদ্যু প্রকল্পে বাংলাদেশকে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাবও রাখছে বলে জানান তারা। এ প্রস্তাবে রাজি হলে বাংলাদেশ প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করে আনুপাতিক হাতে বিদ্যু পেতে পারে বলে জানানো হয়। এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে টিপাইমুখ জলবিদ্যু প্রকল্পের ভালো-মন্দ যাচাই করতে বৈঠক করবেন বলেও জানা গেছে।

নয়াদিলি্লতে বাংলাদেশের কূটনীতিকরা বলেছেন, টিপাইমুখ প্রকল্পের ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে যদি কোনোভাবে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হয় তবে টিপাইমুখ প্রকল্পের ব্যাপারে ঢাকা 'গ্রিন সিগন্যাল' দেবে না। আর নাম প্রকাশ না করার শর্দে বাংলাদেশের এক উচ্চপদস্থ কূটনীতিক জানিয়েছেন, টিপাইমুখে উপাদিত বিদ্যুতের দাম এতটাই বেশি হবে যে, সেখানে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এ মুহূর্তে প্রকল্পটিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। পরে কারিগরি দক্ষতা বাড়িয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম কমিয়ে আনা সম্ভব হলে তখন ভিন্ন বিবেচনার প্রশ্ন আসতে পারে

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের বরাক নদের ওপর টিপাইমুখ বাঁধ ও জলবিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণে যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি সইয়ের আট মাসের মাথায় চমকপ্রদ তথ্য জানালেন ধ্রুব বিজয় সিং কারণ বাংলাদেশের উদ্বেগ এবং মণিপুর ও পাশের রাজ্য মিজোরামের পরিবেশবাদীদের বিরোধিতার পরও গত ২২ অক্টোবর চুক্তিটি সই হয় দিল্লিতে চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানটিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে ও মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ও ইবোবি সিং

দিল্লির একটি কূটনৈতিক সূত্রে গতকাল জানা গেছে, মূলত আর্থিকভাবে প্রকল্পটি লাভজনক হবে না, এমন ধারণা থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে কারণ যে পরিমাণ অর্থ এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে অনেক বেশি তাই প্রকল্পটি লাভজনক না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি

গতকাল সকালে বাংলাদেশের এই সাংবাদিকদের সামনে চমকপ্রদ এক তথ্য তুলে ধরেছেন ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী পবন কুমার বানসাল তাঁর দাবি, প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশই টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাবটি দিয়েছিল সন্ধ্যায় এ দাবির সত্যতা জানতে চাইলে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ করিম সুর মিলিয়েছিলেন তবে তাদের কেউই এ বক্তব্যের সমর্থনে কোনো প্রমাণ দেখাতে বা সূত্র উল্লেখ করতে পারেননি। তবে এ বিষয়ে পবন কুমার উপস্থিত পানিসম্পদসচিব ধ্রুব বিজয় সিংকে এ বিষয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন। পরে ধ্রুব বিজয় সিং সাংবাদিকদের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ষষ্ঠ বৈঠকের যৌথ সম্মতিপত্রের একটি অনুলিপি সরবরাহ করেন। তবে সে কাগজটি পবন কুমার বানসালের দাবির সত্যতা প্রমাণ করে না

সম্মতিপত্রে দেখা যায়, ষষ্ঠ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বাংলাদেশ ও ভারতে বন্যানিয়ন্ত্রণের স্বার্থে বরাক বাঁধ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখবে এর জন্য দুই দেশের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীরা সিলেট, কাছাড় ও আশপাশের এলাকায় বন্যার প্রকোপ কমানো ও বন্যানিয়ন্ত্রণের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেকিন্তু ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ করিম বিকেলে তাঁর দপ্তরে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের কাছে পবন কুমার বানসালের বক্তব্যকে সমর্থন করলেসাংবাদিকদের ৭২ ও ৭৮-এ অনুষ্ঠিত জেআরসি বৈঠকের দুটি যৌথ ঘোষণার অনুলিপি দিয়েছেন, যাতে ৭৪ সালের ওই বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্তের কথাটি উল্লেখ আছে

ভারতের পানিসম্পদসচিব বলেন, বৃহদায়তন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ দরকার ভারত নিজস্ব অর্থায়নে এটি করবে, কোনো দাতাগোষ্ঠীর টাকায় নয় কাজেই টাকার উসটা সীমিত তাই টিপাইমুখ প্রকল্পে সমস্যা দেখা দিলে, আমরা অন্য কোথাও এ ধরনের প্রকল্প করার কথা ভাবব

জলবিদূত নিয়ে ধ্রুব বিজয় সিং জানান, জলবিদ্যুপাদনের লক্ষ্যে টিপাইমুখ প্রকল্পটিতে ২২ হাজার হেক্টর জমিতে পানি সংরক্ষণ করা হবে এতে প্রায় ৯০০ কোটি কিউবিক লিটার পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। মূলত বন্যার সময় পানি ধরে রেখে পরে ছাড়াই হবে এর কাজ। প্রকল্পে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তবে পানির প্রাপ্যতা অর্থা যে পরিমাণ পানি ধরে রাখা হবে, কেবল তার ভিত্তিতে বিদ্যুপাদিত হবে প্রকল্পটিতে সেচের ব্যবস্থা না থাকায় পানির গতি রোধের কোনো সুযোগ থাকছে না
ভারতের শ্রমশক্তি ভবনে বাংলাদেশি সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সামনে টিপাইমুখ প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনকালে ভারতের বিদ্যু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (জলবিদ্যু) জি সাই প্রসাদ জানান, 'ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের জানিয়েছে, বাংলাদেশকে সঙ্গে না নেওয়া পর্যন্ত টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে না' এ সময় ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ধ্রুব বিজয় সিং উপস্থিত ছিলেনযদি বাংলাদেশ টিপাইমুখ প্রকল্পের ব্যাপারে আপত্তি জানায় তবে কি এই প্রকল্প নিয়ে ভারত এগিয়ে যাবে?-এমন প্রশ্নের জবাবে সিং স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশকে সঙ্গে না নিয়ে তারা কিছু করবেন না সেখানে প্রজেক্টরের মাধ্যমে টিপাইমুখ প্রকল্পের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) ভারতীয় অংশের সদস্য দেবেন্দ্র শর্মা তিনি প্রকল্পের ওপর উপস্থাপনা দিয়ে বলেছেন, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুপাদন এবং আবারও বলেন; সেচের কাজে পানি সরানোর কোনো উপাদান টিপাইমুখ প্রকল্পে নেই

টিপাইমুখ সম্পর্কে এই উপস্থাপনার আগেই শ্রমশক্তি ভবনে দুপুরের দিকে ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী পবন কুমার বনসালের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের এই প্রবীণ নেতা তার নির্বাচনী এলাকায় ১০ দিন অবস্থানের পর সরাসরি এসে সফররত সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মিলিত হন এবং খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, সত্তরের দশকে বাংলাদেশ বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব তুলেছিল এখন এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুপাদনের লক্ষ্যে দুই দেশের সিদ্ধান্তের আলোকে এ মুহূর্তে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বৈঠকের আয়োজন চলছে বাংলাদেশ এজন্য ১৬ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ গ্রুপের তালিকা পাঠিয়েছে জুনের শেষ সপ্তাহেই এ ব্যাপারে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য বিশেষজ্ঞরা বসছেন পবন কুমার বনসাল স্পষ্ট করেছেন, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করে পানি সরানোর কোনো পরিকল্পনা ভারতের সেই সেখানে সেচ প্রকল্পও নেই দুপুরে মৌর্য আইটিসি হোটেলে বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দিন এতে বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রজি মিত্র, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ বিষয়ক ডেস্কের যুগ্ম সচিব হর্ষবর্ধন সিংলাসহ কূটনীতিক ও ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন

ভারতের উপস্থাপনায় বলা হয়, টিপাইমুখে জলবিদ্যু প্রকল্পে ১৬২ দশমিক ৮ মিটার উচ্চতার বাঁধ থেকে ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুপাদনের লক্ষ্য রয়েছে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দুই বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে এ প্রকল্পটি ২১০ কিলোমিটার উজানে এতে ছয়টি টারবাইন থাকবে

তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যত: তিস্তা চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময়ই। তবে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি সই হয়নি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তিতে। তাঁর দাবি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বঞ্চিত করে বাংলাদেশকে বেশি পানি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার
এরপর গত নয় মাসেও এতে কোনো অগ্রগতি নেই তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বারবার বলছে, অভিন্ন নদীর পানি চুক্তি সইতে তাদের আন্তরিকতার কথা
সোমবারও একই প্রতিশ্রুতি দিলেন পবন কুমার বানসালও তিনি বলেন, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে উভয় দেশের সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব এ চুক্তি সইয়ের জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি কিন্তু ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী রাজ্য সরকারকে আস্থায় নিয়ে কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে তাই পশ্চিমবঙ্গকে আস্থায় নিয়ে চুক্তি আমরা সই করতে চাই
এ ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বানসাল বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমাটা জরুরি নয়, জরুরি হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর আমরা সে লক্ষেই কাজ করছি তা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানটা হচ্ছে তাঁর রাজ্যের মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাতে সব পক্ষই লাভবান হয়